ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গণনায় অনিয়ম ও কারচুপি করে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতারা। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন মানে হারজিৎ থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। সেই হারজিৎ যদি স্বাভাবিকভাবে হয়, তাহলে সবাই সাধারণত মেনে নেয়। কিন্তু সেখানে যদি বড় ধরনের কোনো বৈষম্য অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে।’
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, ‘আপনার লক্ষ্য করেছেন, আজকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের কর্মী সমর্থক এজেন্ট ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা হচ্ছে, ব্যক্তির ওপর হামলা হচ্ছে, আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাড়িতে। এটা তো ফ্যাসিবাদী তৎপরতা। এর সম্পূর্ণ দায় তাদের নিতে হবে, যারা এ ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হবেন। নির্বাচনে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছেন, যেভাবেই পেয়ে থাকেন, এ ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট পর্যবেক্ষণ, আপত্তি আছে। দায় মূলত তাদেরকেই নিতে হবে।’
নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘যদি তারা সরকার গঠন করেন, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা হবে তাদের দায়িত্ব, যদি তারা সরকার গঠন করেন। কিন্তু এখন এগুলো কিসের আলামত? এগুলো বন্ধ করতে হবে। সেটা যদি বন্ধ করা না হয়, আমরা বাধ্য হবো যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, সুনির্দিষ্ট এখনি বলতে চাচ্ছি না, কোনো কোনো জায়গায় ফেসিবাদীদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময়েও তা লক্ষ্য করেছি। মনে রাখবেন, ২৪-এর আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যে কেউ অপমানজনক আচরণ করবেন, জাতি তাদের ক্ষমা করবে না, যুব সমাজ তাদের ক্ষমা করবে না।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ রায় দিয়েছে গণভোটের পক্ষে, অবশ্যই তা বাস্তবায়ন করবে হবে, এর কোনো পরিবর্তন আমরা দেখতে চাই না। গণভোটে হ্যা বিজয়ী হয়েছে, যারা সরকার গঠন করবেন, সেটা বাস্তবায়ন করা তাদের দায়িত্ব। কেউ যদি এড়িয়ে চলতে চান, এ বিষয়ে আমরা কণ্ঠ থেমে থাকবে না, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব।’
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার সময় বেশ কিছু জায়গায় হঠাৎ করে ফলাফল প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে, বিভিন্ন জায়গায় রেজাল্ট শিটের ওপর ঘষামাঝা করা হয়েছে। কিছু কিছু আসনে দ্বৈতনীতি অবলম্বন করা হয়েছে। নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীর ক্ষেত্রে যা হয়েছে, আপনারা দেখেছেন, সেন্টার দখল করে একজন নেতার আপনজনের নেতৃত্বে যা হয়েছে, তার সাক্ষী দেশবাসী।’
জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘যাদের অধিকার জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আমাদের সিদ্ধান্ত তারা প্রতিকার চাইবেন। সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি আমরা প্রতিকার পাই, তাহলে এক কথা। যদি না পাই, তাহলে আমরা বাধ্য হবো আমাদের পথ ধরতে। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশনের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা ন্যায় ইনসাফ করবেন। না করলে দায় তাদের নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এসব ঘটনা, গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত যা ঘটেছে, সবগুলোর আজ তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা এটার প্রতিকার চাই। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই, কিন্তু প্রতিকার চাওয়ার ও পাওয়ার আমাদের অধিকার আছে।’
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের ফলাফলে বিএনপি ২০৯টি আসন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে পেয়েছে ৬৮টি আসন। এ ছাড়া জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের সঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ছয়টি আসন। আরেক জোটসঙ্গী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি আসন, খেলাফত মজলিস পেয়েছে একটি আসন।
এর বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে একটি আসন। বিএনপির জোটসঙ্গী গণঅধিকার পরিষদ পেয়েছে একটি আসন। আন্দালিব রহমান পার্থর বিজেপি পেয়েছে একটি আসন ও জোনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলন পেয়েছে একটি আসন