আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ও পরে দলের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে, সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের বহু কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং তৃণমূলের অসংখ্য নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হন বা আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। বিষয়টি নিয়ে দলটির ভেতরেও অসন্তোষ রয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশ ছাড়েন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। এ ছাড়া ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদও বিদেশে ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য দেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে অবস্থান নেন।
আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টদের দাবি, শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শেখ হেলাল উদ্দীন, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন), নিক্সন চৌধুরী, সাবেক বরিশাল সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহসহ আরও কয়েকজন বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাদের অনেকেই ভারতে অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে দলটির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা, হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়। এসব মামলায় সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবার অনেক নেতা আত্মগোপনে থাকলেও দেশ ছাড়তে পারেননি। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের একটি অংশ এখনও কারাগারে রয়েছেন।
জানা গেছে, সরকার পতনের পর সাধারণ নেতা-কর্মীদের বড় অংশ আইনি জটিলতা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়লেও প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের অনেকেই দ্রুত দেশ ছাড়তে সক্ষম হন। এ নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নীরব ক্ষোভ রয়েছে বলেও জানা গেছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীরা নানা ঝুঁকির মুখে পড়লেও দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের স্বজনরা নিরাপদে বিদেশে চলে যেতে পেরেছেন।
তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দলটির নেতাদের কেউ কেউ অনানুষ্ঠানিকভাবে বলছেন, সরকার পতনের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অনেকেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে দেশ ছেড়েছেন। তবে এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।