ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের নিন্দা জানিয়ে এটিকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে ব্যাংকের নবনিযুক্ত বিতর্কিত চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার-সহকারী মুজিবুল আলমের পাঠানো এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা এবং নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। কিন্তু কোনো উসকানি ছাড়াই পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে, জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে এবং একপর্যায়ে গুলি চালায়।
তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের গুলিতে বহু আমানতকারী ও গ্রাহক আহত হয়েছেন এবং তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি আরও বলেন, আমানতকারী ও গ্রাহকদের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। এ ধরনের বলপ্রয়োগ মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের শামিল।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে অতীতে সংঘটিত লুটপাট ও অনিয়ম নিয়ে জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ অনুযায়ী, নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর হওয়ায় তাকে দায়িত্বে বহাল রাখা হলে ব্যাংকটি পুনরায় অনিয়ম ও লুটপাটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। ব্যাংক জনগণের আমানতের ওপর পরিচালিত হয়। তাই গ্রাহকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো ব্যাংক দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।
সাধারণ গ্রাহকদের কণ্ঠরোধ করতে গুলি চালানোর ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল হামলার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।
একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল করে কোটি কোটি আমানতকারী ও গ্রাহকের উদ্বেগ দূর করা এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াত সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার।