সংস্কার নিয়ে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। নির্বাচনের আগে তারা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেসব থেকে এখন তারা সরে এসেছে। এভাবে চললে সরকার কতৃত্ববাদী হয়ে উঠবে। রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। এ ছাড়া প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনা করেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান।
হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পরই আমি বলেছি, এটা প্রতারণা ও প্রবঞ্চণার সংসদ। আমি কেন এলাম এই সংসদে এবং কী পেলাম? যে অধ্যাদেশগুলো আইন করলে সরকারের ক্ষমতা বাড়বে, সেগুলোকে তারা আইনে পরিণত করেছে। কিন্তু যেগুলো সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে, সেগুলো তারা ল্যাপস করে বাতিল করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময়ে ভোট চুরি করে নির্বাচিত বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিনিধিদের সরাতে একটি বিশেষ মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, নির্বাচিত সরকার এসে সেটিকে আইনে পরিণত করেছে। যার মাধ্যমে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ছাড়াই তারা স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের অপসারণ করতে পারবে। ফলে বিরোধী দলের কাউকে তাদের অপছন্দ হলে তাকে সরিয়ে পছন্দমতো প্রশাসক বসাতে পারবে।
হান্নান মাসউদ বলেন, আমাদের কিছু দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও বিএনপির প্রস্তাবনা অনুযায়ী পুলিশ কমিশন হয়েছে। কিন্তু সরকারে গিয়ে এটি বিএনপির পছন্দ হচ্ছে না। তারা গুম কমিশন বাতিল করেছে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিএনপিই চাচ্ছিল। কিন্তু সরকারে গিয়ে তা বাতিল করল। সংবিধান সংস্কারের যে কথা এসেছে, সেখান থেকেও বিএনপি সরে গেছে। আমরাও তাহলে নতুন সংবিধানের দাবিতে ফিরে যাব।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক দল সম্মিলিতভাবে যেসব সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে তার একটিও বাস্তবায়ন করেনি। ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর কী ফল হলো? আমরা একটা প্রতারণামূলক দলের সাথে আমরা কাজ করছি। যারা প্রথম থেকে ম্যাটিকুলাসলি প্ল্যান করেছে যেন অভ্যুত্থানের পর আমরা যে স্বপ্ন দেখেছি, তা ভেস্তে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের এলিট, সিভিল-মিলিটারি-বুরোক্রেসি ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। সেকারণে তারা সংস্কারকে ভণ্ডুল করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে দাড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, কানাডায় যদি কোনো মন্ত্রী এরকম মিথ্যা কথা বলত, তাকে সেদিনই পদত্যাগ করতে হতো।
দিলারা চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে দুমাসও যায়নি। এরমধ্যে আমাদের আলোচনা করতে হচ্ছে। জুলাই সনদে ও অধ্যাদেশে রেখে যাওয়া গুম, মানবাধিকার, দুদক, বিচার বিভাগসহ একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাতিল করছে সরকার। কাউন্সিল গঠন করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। যার ফলে প্রতিষ্ঠান স্বাধীন থেকে নির্বাহী বিভাগের বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারবে। কিন্তু সেটিও হয়নি। এগুলো না হলে প্রধানমন্ত্রী কতৃত্ববাদী হয়ে উঠবে। ফলে সরকারকে জুলাই সনদ ও গণভেট মানতে হবে। তা না হলে তারা হাসিনার সরকারের দিকেই ফিরে যাবে।