বিদেশে যেসব দূতাবাস বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিপদে পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়, সেসব দূতাবাস চালু রাখার কোনো প্রয়োজন নেই, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে মহান মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বহির্বিশ্বে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘প্রবাসে কর্মরত শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের শিকার হন। যেসব দূতাবাস বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে না এবং তাদের বিপদে পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়, সেসব দূতাবাস চালু রাখার কোনো প্রয়োজন নেই।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘উন্নয়ন ও উৎপাদনের জন্য মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা অপরিহার্য। শ্রমিকরা যাতে তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের সঠিক মর্যাদা ও ন্যায্য পারিশ্রমিক পান, তা নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাচ্ছে।’ কোনো ধরনের শোষণ বা বঞ্চনা নয়, বরং ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমেই শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংসদে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা সম্পর্কে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত সংসদে ইতিহাসের শিক্ষক বা শিক্ষার্থী হিসেবে ভূমিকা পালন করতে যায় না। বরং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে সোচ্চার হওয়াই সংসদে দলটির প্রধান লক্ষ্য। জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলাই তাদের রাজনীতির মূল ভিত্তি।’
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির আনম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ প্রমুখ।