ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র ছয় সংসদ সদয়র জোট থেকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী সুলতানা জেসমিন জুঁই। সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে তিনি এ কথা জানান।
এ সময় জুঁই নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মজিবর রহমান ইকবাল ও ময়মনসিংহ-১ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমর স্বাক্ষরিতএকটি চিঠিও ফেসবুকে দেন। ইসি বরাবর লেখা এই চিঠি অনুসারে, স্বতন্ত্র ছয় এমপির পক্ষ থেকে এই দুজন চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।
জেসমিন জুঁই লিখেছেন, ‘আপনাদের উদ্বেগের যথাযথ কারন আছে, আশ্বস্ত করছি কনফিউশনের কিছু নাই, আমাকে স্বতন্ত্র জোট থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাই মূল দলের তালিকায় আমার নাম দেখা যায়নি। স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থীরা ইতোমধ্যে আমার মনোনয়নপত্র স্বাক্ষর করেছেন।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘সবকিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। কোর্টের কিছু কাজ বাকি থাকায় কারো ফোন রিসিভ করতে পারিনি। একটু সময় দিন ইনশাআল্লাহ, সবার সঙ্গে খুশি শেয়ার করে নেব। আপনাদের ভালোবাসায় আমি আজকের জুঁই।’
উল্লেখ্য, চিঠিটি গত ১৯ এপ্রিল ইস্যু করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিটির সহ-রিটার্নিং কর্মকর্তা উপসচিব মো মনির হোসেন জানান, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বতন্ত্র জোটের কোনো মনোনয়ন ইসির হাতে এসে পৌঁছায়নি। এ ব্যাপারে সুলতানা জুঁই ও শেখ মজিবুর রহমানকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করে ক্ষমতাসীন বিএনপি দল। দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে ৩৬ জনের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছে দলটি।
সংসদের মোট নারী সংরক্ষিত আসন ৫০টি, যার মধ্যে প্রাপ্ত আসন অনুপাতে বিএনপি ও সমমনা জোট পেয়েছে ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি ও ছয় স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছে একটি আসন। তবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জয়ী হয়ে আসা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
একই দিন সন্ধ্যায় জামায়াত-এনসিপি জোটের নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ তালিকা অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ১৩ প্রার্থীর মধ্যে জামায়াতে থেকে আটজন এবং অন্যান্য শরিক দল ও বিশেষ ক্যাটাগরি থেকে পাঁচজন মনোনয়ন পেয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল। এরপর ২২ ও ২৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং তা নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।