সংবিধান সংস্কার পরিষদের বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে প্রধানতম দায় প্রধানমন্ত্রীর বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সাংবিধানিকতার দোহাই দিয়ে যদি সংস্কার আটকে রাখা হয়, তাহলে সরকারি অফিসগুলোতে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি কেন নেই।
রাজধানীর বিজয় সরণিতে রোববার (১৫ মার্চ) এক রেস্তোরাঁয় ন্যাশনাল প্রফেশনাল অ্যালায়েন্স আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, ‘সাংবিধানিকতার কথা বলা হলে, মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস—এই বাক্যটি সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে লেখা হয়েছে। জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে যেমন এটি সম্ভব হয়েছে, তেমনি সংবিধানে সংস্কার পরিষদের উল্লেখ না থাকলেও জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, সংসদ সদস্যরা জুলাই সনদের শর্তগুলো মানতে বাধ্য থাকবেন। কিন্তু এখন সংসদে এসে তিনি তা মানছেন না। সালাহউদ্দিন আহমেদের সেই সময়কার বক্তব্য বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিচার কীভাবে হবে কিংবা সংস্কার কীভাবে হবে—এমন প্রশ্ন উঠলে একটি দল উটপাখির মতো মাথা বালুর মধ্যে গুঁজে রাখত। আর মাথা তুলেই একটাই কথা বলত—নির্বাচন, নির্বাচন এবং নির্বাচন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তখন বলেছিলাম—খাওয়াদাওয়া ও লুটপাটের জন্যই তারা নির্বাচনের কথা বলছে। তখন তারা বলত, নির্বাচনের পর সংস্কার হবে, আর এখন বলছে সংবিধানে লেখা নেই।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘যারা সংবিধানের অজুহাতে সংস্কার চায় না, তাদের রাজনীতি থেকে ওয়াশআউট করে দিতে হবে। ২০২৯ সালে একটি নির্বাচন হবে, যেখানে যারা সংস্কার চায় তাদের মাধ্যমে সংসদ গঠিত হবে।’
ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু কর্মীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমার বক্তব্যের কারণে নাকি একজন অসুস্থ হয়ে গেছে—এমন কথা বলা হচ্ছে। রাজনীতির মাঠে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার কারণে কেউ অসুস্থ হয়ে যায় না। যতদিন রাজনীতিতে আছি, ততদিন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও লুটপাটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।’
ইফতার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল প্রফেশনাল অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক নাভিদ নওরোজ শাহ। এ ছাড়া এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং যুগ্ম সদস্যসচিব ও খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।