বিরোধীদল জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার সমাধান সংসদের মধ্যেই করতে চায় বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে সংসদে সমাধান না হলে তারা রাজপথে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলেও জানান তিনি।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষে সংসদ ভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন নিয়ে তারা সংসদে নোটিশ দেবেন। নোটিশের মাধ্যমে সংসদের ভেতরেই বিষয়টির সমাধান চান তারা। তবে কোনো কারণে যদি সংসদে জনগণের প্রত্যাশার বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই রাজপথে আন্দোলনে যেতে হবে। যদিও তারা আন্দোলনের পথে যেতে চান না।
তিনি বলেন, ‘আজ যেহেতু বিষয়টি উত্থাপন করেছি এবং স্পিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নোটিশ দিতে বলেছেন, সেই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি সংসদেই এগিয়ে যেতে পারে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘বিষয়টি কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের নয়; এটি সংসদের বিষয়। তাই সংসদেই এর সমাধান হওয়া উচিত।’ এরপর সরকার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য এলে তখন পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণ করবেন বলে জানান।
আরেক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর বলেন, ‘সংবিধানে ২০২৬ সালে নির্বাচনের কোনো উল্লেখ নেই। যদি প্রেসিডেন্সিয়াল আদেশ সংবিধানের বাইরে হয়েও মানা হয়, তাহলে তার একটি অংশ মানা আর অন্য অংশ না মানা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা কথা আছে—জনমতই সর্বোচ্চ সংবিধান। গণভোটে জনগণ রায় দিয়েছেন। গণভোটের দাবি তাদেরও ছিল, আমাদেরও ছিল। আমাদের দাবি ছিল আগে গণভোট হোক, আর তাদের দাবি ছিল একই দিনে হোক। শেষ পর্যন্ত তাদের দাবিই বাস্তবায়ন হয়েছে। তারা গণভোট চাননি—এ কথা তো বলেননি। গণভোটে সংস্কারের পক্ষে প্রস্তাবই বিজয়ী হয়েছে।’
এর আগে অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী ৩০ পঞ্জিকা দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টি সংসদের নজরে আনেন।