জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীপন্থী আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির নেতারা। তারা তার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টক শোতে আলোচনার সময় শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘সামান্তা যে কথাগুলো বলে, ওকে শোকজ করে বহিষ্কার করা উচিত। আজ দুপুরে এনসিপিকে বলেছি—এই মেয়েটাকে ইমিডিয়েটলি বহিষ্কার করা উচিত। কারণ তার হারানোর বেদনা আছে; সে কিছু হতে পারেনি। তাকে কোনো জায়গায় ডাকে না।’
এ সময় সামান্তা শারমিনকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘এই মেয়েগুলো আততায়ী। সামান্তারা বিক্রি হয়ে থাকে। যখন যে কথা বলতে বলে, তখন সেটাই বলে।’
শাহরিয়ার কবিরের এমন মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এর নিন্দা জানিয়েছেন এনসিপির বর্তমান ও সাবেক একাধিক নেতা।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনকে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন জামায়াতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক শাহরিয়ার কবির। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে যে কয়জন নারী নেত্রী সরব ছিলেন, তিনি তাঁদের মধ্যে একজন। তখন আমরা আমাদের পাশে কাউকে পাইনি। উনাকে আততায়ী বলার মতো ধৃষ্টতা দেখানোর জন্য শাহরিয়ার কবিরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।’
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মোহাম্মদও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির যেভাবে সামান্তা শারমিনের চরিত্রহনন করেছেন এবং তাকে দল থেকে বের করে দেওয়ার উসকানি দিয়েছেন, তার তীব্র নিন্দা জানাই। তাকে অবশ্যই সামান্তা শারমিনের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এনসিপি নারীর মর্যাদার রাজনীতি করে, নাগরিক মর্যাদা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার রাজনীতি করে। এনসিপি নির্বাচনী সমঝোতায় গিয়েছিল গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থের জন্য, কোনো নারীবিদ্বেষী গুন্ডাতন্ত্রের সঙ্গে আপস করার জন্য নয়।’
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারী শক্তির মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুমও ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিনকে নিয়ে এমন মন্তব্যের নিন্দা জানান।
এদিকে এনসিপি থেকে পদত্যাগকারী ডা. তাসনিম জারা এক পোস্টে লেখেন, তিনি এনসিপি গঠনের শুরুর সময় থেকেই সামান্তা শারমিনকে চেনেন এবং দল গঠনে তার অবদান রয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাউকে ‘বিক্রি হয়ে গেছে’—এমন অভিযোগ তোলা রাজনীতিতে বিবেকের জায়গা কতটা আছে, সে প্রশ্ন সামনে আনে।