জাতীয় সংসদে জাতীয় সংগীত চলাকালে বিরোধীদলীয় সদস্যদের বসে থাকার বিষয়ে নাগরিক প্রতিদিনের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের মুখপাত্র হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, ‘সেদিন সংসদে যা ঘটেছে তা সবাই দেখেছেন।’ নতুন স্পিকারের আলোচনায় বিরোধীদল দাবি করেছিল—‘স্বৈরাচারের’ (রাষ্ট্রপতি) কোনো বক্তব্য যেন সংসদে স্থান না পায়। কিন্তু সেই দাবি মানা হয়নি। ফলে সংসদীয় রীতি মেনেই বিরোধীদল তাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টায় ১১ দলীয় জোটের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
রীতি মেনে ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের সূচি প্রকাশ করা হয়। তবে তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তখন থেকেই তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে আসছিল জামায়াত জোট। এরপর ১২ মার্চ বিকেলে সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রবেশ করলে প্রচলিত রীতিতে সংসদ নেতা ও সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। তবে বিরোধীদলের সদস্যদের একটি অংশ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নিজেদের আসনে বসে থাকেন।
এ সময় বিউগলে জাতীয় সংগীত বাজতে শুরু করলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সংসদের কর্মকর্তারা জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সদস্যদের দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। তখন কেউ কেউ দাঁড়ালেও কয়েকজন সদস্য বসে ছিলেন। তবে একে একে সবাই একসময় দাঁড়িয়ে যান। এসময় জামায়াত জোটের সদস্যদের প্রতিবাদ বন্ধ রেখে নীরবে থাকতে দেখা যায়। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি সংসদে তার ভাষণ শুরু করলে বিরোধীদলের সদস্যরা উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।