জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে আন্দোলনবিরোধী বক্তব্য ও প্রচারণার মাধ্যমে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিক—শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপাকে আসামি করা হচ্ছে। তাদের আগামী ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির করতে জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রশ্ন হলো—তারা কি দেশের গণমাধ্যমকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেননি? সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে কি চাটুকারিতা ও তোষামোদির পর্যায়ে নামিয়ে আনেননি? শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনকে দীর্ঘায়িত করতে গণমাধ্যমকে কি নানাভাবে ব্যবহার করেননি? বিরোধী মত ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে উসকানি, অপপ্রচার ও জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা কি করেননি?
আর সীমাহীন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থসিদ্ধির অভিযোগগুলোও কি এড়িয়ে যাওয়ার মতো?
তাই প্রশ্নটা শুধু মানবতাবিরোধী অপরাধে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। একটি রাষ্ট্র, তার গণতন্ত্র, গণমাধ্যম, সাংবাদিকতা ও মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে যারা পরিকল্পিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তাদের সামগ্রিক দায় ও ভূমিকারও জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
ইতিহাস শুধু অপরাধের বিচার করে না; ইতিহাস জানতে চায় কারা রাষ্ট্রকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিল, কীভাবে নিয়ে গিয়েছিল এবং তার পরিণতি কী হয়েছিল।
লেখক
মোস্তাফিজুর রহমান টিটো
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, নাগরিক প্রতিদিন