ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটের ফলাফল ও নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই গেজেট প্রকাশ করা হয়।
ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও আইনি জটিলতা ও প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ৩ আসনে ফলাফল স্থগিত রাখা হয়। প্রাপ্ত ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে ইসি।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) উৎসবমুখর পরিবেশে সারাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের ওপর জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে চলে ভোটগ্রহণ। শুক্রবার দুপুরে ইসি ২৯৭ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে। এবার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৯৭ আসনের গেজেট ঘোষণা করলো ইসি।
ইসি জানিয়েছে, এবার গণভোট ও সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ৫৯.৪৪ শতাংশ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এর আগের ১২টি সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছিল ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর আয়োজিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। আর সবচেয়ে কম ভোট পড়েছিল ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এই দুই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল যথাক্রমে ৮৭.১৩ শতাংশ এবং ৪৯.৬৭ শতাংশ।
গণভোটে চার কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ‘হ্যাঁ’ এবং ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার জন ‘না’ ভোট দিয়েছেন বলে জানায় ইসি।
প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে ঘোষিত ২৯৭ আসনের ফলাফলে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন। দলটির মিত্র গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি করে আসন পেয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী এককভাবে পেয়েছে ৬৮টি আসন। দলটির নির্বাচনী জোটের সঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন। আরেক জোটসঙ্গী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ২টি আসন, খেলাফত মজলিশ পেয়েছে ১টি আসন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন ১টি এবং ৬টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছে।