সরাসরি ভোটাভুটির মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আজ (২০ আগস্ট)। যেখানে জাতীয় সংসদের সদস্যরাই প্রত্যক্ষ ভোট দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।
এর আগে ১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে ভোটাভুটি হয়।
এ নির্বাচনে জাতীয় সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত। নির্বাচনে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
তফসিল অনুযায়ী, আজ দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ সংসদ-সদস্যরা নিজ দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেবেন। তবে অসুস্থ থাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ভোট দিতে পারবেন না। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরই সংসদ ভবনেই বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। এরপরই গেজেট প্রকাশের পর আগামীকাল (শুক্রবার ২১ আগস্ট) বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।
এই নির্বাচন সামনে রেখে সংসদ সদস্যদের ভোট প্রদানের জন্য ৯ দফা নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬’ শীর্ষক নির্দেশনায় এসব নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে।
যেসব নির্দেশনা পালন করবেন সংসদ সদস্যরা
১. সংসদ কক্ষে প্রবেশ: ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করে ব্যালট সংগ্রহ করে ভোট দিতে হবে। এ সময় বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
২. আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে: সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় সংসদ সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে।
৩. ব্যালট সংগ্রহ: নিজ আসনে বসার পর সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে নিজের নাম ও বিভক্তি নম্বর মুদ্রিত ব্যালট পেপার নিতে হবে। ব্যালটের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে তা সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে।
৪. পছন্দের প্রার্থীকে ভোট: ব্যালটের নির্ধারিত অংশে পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে নির্দিষ্ট ফাঁকা স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে ভোট দিতে হবে।
৫. ব্যালট বাক্সে জমা: ভোট দেওয়া শেষ হলে ব্যালট পেপার সংসদ কক্ষে রাখা নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।
৬. ব্যালট নষ্ট হলে: কোনো কারণে ব্যালট পেপার নষ্ট হয়ে গেলে তা ব্যালট বাক্সে রাখার আগে নির্বাচনকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে হবে। নির্বাচনকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
৭. নির্বাচনী প্রচার নিষিদ্ধ: ভোট গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের বৈঠকে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার, বক্তব্য বা ভাষণ দেওয়া যাবে না।
৮. সমস্যায় চিফ হুইপের শরণাপন্ন: ভোট দেওয়ার সময় তাৎক্ষণিক কোনো সমস্যার সৃষ্টি হলে চিফ হুইপ ও বিরোধীদলের চিফ হুইপের শরণাপন্ন হতে হবে।
৯. পূর্ণ নাম লিখতে হবে: ব্যালট পেপারে যেখানে ভোটারের পূর্ণ স্বাক্ষরের কথা বলা হয়েছে, সেখানে পূর্ণ নাম লিখতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর থেকেই তার পদে থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত তার পদত্যাগের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
সংবিধান অনুসারে, পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। নির্ধারিত দিনের আগেই হচ্ছে এই ভোটগ্রহণ। এর আগে, ৬ আগস্ট ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে ইসি।