সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় দেশের প্রত্যেক নাগরিককে ন্যাশনাল হেলথ সিস্টেমের অধীনে একটি করে আধুনিক ই-হেলথ কার্ড প্রদান করা হবে। দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে এবং তৃণমূলের মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তি সহজ করতেই ই-হেলথ কার্ড প্রদান করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বাজেট বক্তৃতায় এই কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ইউনিটগুলো হবে জনগণের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও প্রতিরোধ ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্রবিন্দু।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটের অধীনে থাকবে তিনটি প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র (কমিউনিটি ক্লিনিক), যেখান থেকে প্রশিক্ষিত কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কাররা নিয়মিত রোগ প্রতিরোধমূলক পরামর্শ, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি সহায়তা, এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন।’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এর ফলে সাধারণ মানুষকে বড় হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল হতে হবে না, রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত হবে, চিকিৎসা ব্যয় কমবে এবং জনগণের আউট-অব-পকেট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় প্রত্যেক নাগরিককে একটি করে আধুনিক হেলথ কার্ড প্রদান করা হবে, যা একটি সমন্বিত রোগী ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত রোগী রেফারেলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রাথমিক, মাধ্যমিক বা বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসা ইতিহাস, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, হেলথ কার্ডচিকিৎসার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, ভুল চিকিৎসা ও ওষুধের পুনরাবৃত্তি কমবে এবং রোগী আরও দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর সেবা পাবেন। একইসঙ্গে এই ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।