বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন সংসদ অধিবেশনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ করা অর্থ ও চাল-গম বিতরণে চরম বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি) বরাদ্দ পেলেও বিরোধী দলের এমপিরা এখনো তা পাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ত্রাণ বরাদ্দ বিতরণে এই বৈষম্যের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের ফ্লোর নিয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের দুর্যোগের ম্যাপে কি কোনো পরিবর্তন এসেছে? কারণ আমরা দেখলাম, গত ৩০ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা শুধু সরকারি দলের আসনগুলোতে গেছে। বিরোধী দলের কোনো আসনে ওই বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। যদি এমন হয়ে থাকে যে দুর্যোগ শুধু সরকারি দলের আসনগুলোতেই আসবে, বিরোধী দলের আসনগুলোতে আসবে না, তাহলে ভিন্ন কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দুর্যোগ এলে তো সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
ত্রাণ বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আখতার হোসেন জানান, গত ৩০ এপ্রিল ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন করে চাল-গম শুধু সরকারি দলের এমপিদের আসনে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের কোনো আসন এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। জনগণের করের টাকা থেকে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে বিরোধী দলের আসনের সাধারণ মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। কবে নাগাদ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদেরও সমতাভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হবে, জানতে চান তিনি।
আখতার হোসেনের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত মৌলিক প্রশ্ন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘যদি অভিযোগটি সত্য হয়, তাহলে তা অবশ্যই অনুচিত। মাননীয় মন্ত্রী বিষয়টি পরিষ্কার করবেন বলে আশা করছি।’
জবাবে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসকদের কাছেও নগদ অর্থ ও চালের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যেসব এমপি আমাদের কাছে চাহিদাপত্র দেন, তাদের আমরা বরাদ্দ দিয়ে থাকি। আমার বিশ্বাস, কাল-পরশুর মধ্যেই তারা বরাদ্দ পেয়ে যাবেন।’
সংসদে উপস্থিত বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাও পেয়ে যাবেন। আপনাদের মধ্যে যারা চাহিদাপত্র দিয়েছেন, তাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই তা পৌঁছে যাবে।’