ভারতে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ রয়েছে দাবি করে তাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার সহযোগিতা চেয়েছে ভারত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের আহ্বানও জানিয়েছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারতে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি মূল ইস্যু। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। বর্তমানে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য ২ হাজার ৮৬২টি মামলা বাংলাদেশের কাছে ঝুলে আছে, যার কিছু পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তিহীন।’
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিজয়ের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের এক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন।
এর আগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মাধ্যমে লোকজনকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আসামের মুখ্যমন্ত্রী যখন একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন, তখন বাংলাদেশ জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছিল। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভারতের পক্ষ থেকে রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, ‘ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করা সব বিদেশি নাগরিককে আইন-প্রক্রিয়া এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যাতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে জন্য বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই কার্যক্রম শেষ করতে হবে।’
গত ২৬ এপ্রিল আসামে ২০ জন বিদেশি নাগরিককে আটকের পর বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তবে তারা কোথায় আটক হয়েছেন বা তাদের নাগরিকত্ব কী—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘আসাম লড়াই চালিয়ে যাবে, পুশব্যাকও চলতে থাকবে।’