পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগে অস্বীকৃতি একপ্রকার নাটকীয় সমাপ্তির দিকে গড়াল। রাজ্যপাল আর এন রবি বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজ্যের বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন।
এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পরই শেষ হওয়ার কথা ছিল।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার জারি করা একটি চিঠি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজভবন থেকে ‘সাধারণের অবগতির জন্য’ প্রকাশ্যে আনা হয়।
গতকালের জারি করা সেই এক লাইনের আদেশে বলা হয়, ‘ভারতের সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর দফার (খ) উপ-দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, আমি এতদ্বারা ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছি।’
সংবিধানের ১৭২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিধানসভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায় এবং নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত বিদায়ী মন্ত্রিসভা ‘তত্ত্বাবধায়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার ঘোষণা বিতর্কের জন্ম দেয়।
মমতা যুক্তি দেন, তিনি নির্বাচনে হারেননি এবং বিজেপি যে জনরায় পেয়েছে, তা আসলে ‘লুট’ করা।
সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেছিলেন, ‘আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না। আমি পদত্যাগপত্র জমা দেব না।’
বিরোধী জোট তার পাশে দাঁড়ালেও বিজেপির কয়েকজন নেতা মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি বরখাস্ত করার দাবি জানান, যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল রাজ্যপালেরই আছে।