সবুজ শ্যামল নেত্রকোনার মদন উপজেলায় নেমে এসেছে এক কালিমালিপ্ত অন্ধকার। যেখানে পবিত্রতার পাঠ দেওয়ার কথা ছিল, সেখানেই এক ১১ বছরের শিশুর শৈশব বলি হয়েছে পৈশাচিক লালসার। অভাবের তাড়নায় মা ছিলেন দূরে, নানার আদরে মাদ্রাসায় পড়তে গিয়ে শিশুটি যে এমন এক ‘পিশাচের’ খপ্পরে পড়বে, তা হয়তো বিধাতাও ভাবেননি। আজ সেই শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা; তার বিষাদগ্রস্ত চোখে এখন কেবলই শূন্যতা।
তদন্তের জালে যখন পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষককে, ঠিক তখনই এক রহস্যময় ভিডিও বার্তায় দেখা মিলল তার। ৫ মিনিট ৪ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে অসুস্থতার ভান করে নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘অপরাধী খুঁজে বের করার আগেই আমাকে অপরাধী বানাবেন না।’ অথচ এই তথাকথিত ধর্মগুরুর লালসার শিকার হয়ে একটি নিষ্পাপ প্রাণের ভবিষ্যৎ আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
সত্য বলার সাহস দেখানোও যেন আজ এক অপরাধ। শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসক সাইমা আক্তার এখন সাইবার বুলিং ও ধর্ষণের হুমকির শিকার। তার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে একটি চক্র। অন্যদিকে, হতদরিদ্র মা সিলেট থেকে ফিরে এসে বিচার চাইছেন সেই ‘পিশাচের’, যাকে তিনি বিশ্বাস করে মেয়ের শিক্ষক হিসেবে মেনেছিলেন।
মদন থানা পুলিশ জানায়, আসামিকে গ্রেপ্তারে রাতদিন অভিযান চলছে। অভিযুক্ত শিক্ষক পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে থাকলেও পুলিশ আশাবাদী তাকে দ্রুত খাঁচাবন্দি করা যাবে। এরই মধ্যে উপজেলা প্রশাসন শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছে, তাকে পুষ্টিকর খাবার ও মানসিক সাহসের যোগান দিচ্ছে।