দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, প্রয়োজনে এসব কারখানা বেসরকারি ব্যবস্থাপনা বা প্রাইভেটাইজেশনের আওতায় এনে চালু রাখার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।
শনিবার (২ মে) সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সুরমা নদীর উভয় তীরে সৌন্দর্যবর্ধন এবং বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বন্ধ কলকারখানা কীভাবে পুনরায় চালু করা যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান প্রণয়নের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে বেসরকারি ব্যবস্থাপনা বা প্রাইভেটাইজেশনের মাধ্যমেও এসব কারখানা চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বলেন, আগামী ৪ মে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
সমাবেশে সিলেট অঞ্চলে কর্মসংস্থানের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এদিকে অবকাঠামো উন্নয়নে কৃষিজমি রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যা বেশি হলেও ভূমির পরিমাণ সীমিত। কৃষিজমি নষ্ট হলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তাই অপ্রয়োজনীয় সড়ক নির্মাণের পরিবর্তে রেলওয়ে খাতের উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে রেল ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকারপ্রধান জানান, ইতোমধ্যে ঢাকা-রংপুর রেলপথ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই ঢাকা-সিলেট রেলপথ উন্নয়ন কাজও শুরু করা হবে।
সরকারের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই সরকারের বয়স মাত্র আড়াই মাস। এর মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। সরকার তার প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে নিবন্ধন এক লাখ ৩০ হাজার শিশু
সরকারের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশের ক্রীড়া খাতে নতুন প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রমে ইতোমধ্যে এক লাখ ৩০ হাজার শিশু নিবন্ধন করেছে।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আধুনিকায়ন করে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সারাদেশ থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করা হবে। শনিবার সিলেটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলামের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ এক লাখ ৩০ হাজার শিশু নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে। তিনি বলেন, আটটি ভিন্ন ডিসিপ্লিনে এসব শিশুদের মধ্য থেকে সেরা প্রতিভা বাছাই করা হবে, যারা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।
এর আগে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বক্তব্য দেন।