আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনায় ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম-এর যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, ট্রলারটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের টেকনাফ থেকে রওনা দিয়েছিল। প্রবল বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই অবস্থার কারণে এটি ডুবে যায়।
সমুদ্র থেকে নয়জন জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধারের পরই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ নামের একটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ৯ এপ্রিল দুপুর প্রায় ১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী পথে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে গভীর সমুদ্রে ভাসমান কয়েকজন মানুষকে দেখতে পায়।
পরে জাহাজটির নাবিকরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আটজন পুরুষ ও একজন নারীসহ মোট নয় বাংলাদেশি নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাত প্রায় ২টার দিকে উদ্ধারকৃতদের গভীর সমুদ্রে টহলরত কোস্ট গার্ড জাহাজ ‘মনসুর আলী’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানায়, এই ঘটনা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত জীবনযাপন এবং স্থায়ী সমাধানের অভাব তাদেরকে এমন বিপজ্জনক পথে পা বাড়াতে বাধ্য করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতার কারণে নিকট ভবিষ্যতে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের আশা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। পাশাপাশি শরণার্থী শিবিরে সীমিত মানবিক সহায়তা, প্রতিকূল জীবনযাপন এবং শিক্ষা ও জীবিকার সুযোগের অভাব তাদের ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রায় প্ররোচিত করছে।
সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, এই পরিস্থিতিকে পাচারকারী ও চোরাকারবারিরা কাজে লাগাচ্ছে, ফলে মানুষের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
ঘটনাটিকে চলমান মানবিক সংকটের একটি কঠিন বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়গুলোকেও সহায়তার আওতায় আনার তাগিদ দেওয়া হয়।
এছাড়া মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো সমাধানে নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণ এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সমুদ্রে এবং বিপজ্জনক অভিবাসন পথে আরও প্রাণহানি ঘটবে।’