সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি জাতীয় সংসদের ফ্লোরে আলোচনায় আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (১৪ মার্চ) জাতীয় সংসদে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদের চলমান অধিবেশনের সময়সূচি, আলোচ্যসূচি এবং আইন প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৫ মার্চ সংসদ অধিবেশন বসার পর তা মুলতবি হয়ে যাবে এবং ঈদের ছুটির পর আগামী ২৯ মার্চ আবার অধিবেশন শুরু হবে। এরপর এপ্রিলজুড়ে অধিবেশন চলবে এবং ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম অধিবেশন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদের বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হবে। এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে রিপোর্ট আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। তিনি আরও বলেন, স্থায়ী কমিটিগুলো গঠনের আগে সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় এবং অধ্যাদেশ ও বিলগুলো সেখানে পাঠানো হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে রিপোর্ট আকারে পেশ করা হবে। আগামীকাল রোববার (১৫ মার্চ) আইনমন্ত্রী সংসদে এ বিষয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারেন।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলকেই প্রশ্ন করা উচিত। তবে তিনি জানান সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি জাতীয় সংসদের ফ্লোরে আলোচনায় আসতেই পারে।
কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ১৪ জন সদস্য এতে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যাদি নিষ্পন্নের জন্য সময় বরাদ্দকরণ ও অধিবেশনের স্থায়িত্বকাল নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আটটি ও অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। বিধি-৭১-এ মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ পাওয়া গেছে ২৭টি এবং বিধি–১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ৯৭টি নোটিশ পাওয়া গেছে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হয়। ওইদিন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সভাপতিমণ্ডলী গঠন, কার্য উপদেষ্টা কমিটিসহ কয়েকটি কমিটি গঠন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর অধিবেশন মুলতবি করা হয়। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন।
এদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছে বিরোধী জোট। শনিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের মুখপাত্র ও জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সংবিধান পরিষদের অধিবেশন ডাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সরকারের সামনে আগামী দিনটি শেষ সময়।’
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উদ্যোগ না নেওয়া হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বিরোধী জোট।
উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেন জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যরা (এমপি)। তবে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি বিএনপি এবং স্বতন্ত্র এমপিরা।