দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফসল ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় যেকোনো মূল্যে আগামী এক মাসের মধ্যে এই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত এক কর্মশালায় এ দাবি তোলেন ধূমপানবিরোধী সংগঠন আত্মার সহ-আহ্বায়ক নাদিরা কিরণ। সাংবাদিক ও তামাক নিয়ন্ত্রণকর্মীদের জন্য এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় নাদিরা কিরণ বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে কোনো অধ্যাদেশ পাস না হলে তা কার্যকারিতা হারায়। দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও সংগ্রামের পর আমরা এই অধ্যাদেশ পেয়েছি। তাই এটিকে পেছনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের চাপ বা চেষ্টা থাকতেই পারে। কিন্তু এই অর্জনকে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।’
কর্মশালায় বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা।
তিনি বলেন, শুধু তামাকজাত দ্রব্য নয়, তামাক উৎপাদন ও রপ্তানির ক্ষেত্রেও সরকারের নেওয়া কিছু নীতিগত ভুল পদক্ষেপ (যেমন তামাক রপ্তানিতে শুল্ক প্রত্যাহার) নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
কর্মশালায় জানানো হয়, জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোনমিকস ফর হেলথ, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো-ফ্রি কিডস (সিটিএফকে), ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকস এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে আসন্ন জাতীয় বাজেটের জন্য তামাকজাত পণ্যের মূল্য নির্ধারণ ও কর কাঠামো নিয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে।
এই প্রস্তাবের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের পরিচালক ও অধ্যাপক ড. শাফিউন এন শিমুল।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এক হিসাব অনুযায়ী, শুধু রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ এক লাখ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে, যা সর্বনিম্ন হিসেবে সাড়ে ৬৩ কোটি টাকার কম হবে না।
তিনি প্রস্তাব করেন, প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের জন্য সিগারেটের ন্যূনতম মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা এবং এক শলাকা সিগারেটের মূল্য ভগ্নাংশে না রেখে পূর্ণ টাকায় নির্ধারণ করা উচিত। যেমন ১৭ দশমিক ৮০ টাকার পরিবর্তে সরাসরি ২০ টাকা। এতে নজরদারির বাইরে থাকা বিক্রির অর্থ রাজস্ব ব্যবস্থার আওতায় আসবে।
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি শুধু জনস্বাস্থ্য নয়। এর সঙ্গে তরুণ সমাজ, রাজস্ব এবং কৃষি—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র জড়িত। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে অধ্যাদেশটিকে দ্রুত আইনে পরিণত করা অত্যন্ত জরুরি।