মোটরসাইকেল বা স্কুটার চালানোর সময় হেলমেট একটি জীবনরক্ষাকারী সুরক্ষা সরঞ্জাম। কিন্তু অনেকেই হেলমেট কেনার সময় নিরাপত্তার চেয়ে রং, নকশা বা বাহ্যিক সৌন্দর্যকে বেশি গুরুত্ব দেন। অথচ ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী সঠিক হেলমেট নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে বিভিন্ন ধরনের হেলমেট পাওয়া যায়। প্রতিটির নকশা, সুরক্ষা ব্যবস্থা ও ব্যবহার ভিন্ন। তাই কেনার আগে কোন ধরনের হেলমেট আপনার প্রয়োজনের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মানানসই, তা জেনে নেওয়া জরুরি।
ফুল-ফেস হেলমেট
নিরাপত্তার দিক থেকে ফুল-ফেস হেলমেটকে সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করা হয়। এতে মাথা, কপাল, চোয়াল, থুতনিসহ পুরো মুখমণ্ডল ঢেকে যায়। সামনের স্বচ্ছ ভিজর চোখকে ধুলাবালি, পোকামাকড় কিংবা উড়ে আসা বস্তু থেকে সুরক্ষা দেয়।
দুর্ঘটনার সময় মুখের গুরুত্বপূর্ণ অংশও সুরক্ষিত থাকে। শক্ত স্ট্র্যাপের কারণে হেলমেট সহজে মাথা থেকে খুলে যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য এটি সবচেয়ে ভালো বিকল্প। তবে কেনার আগে হেলমেটটি স্বীকৃত মান অনুযায়ী সার্টিফায়েড কিনা তা নিশ্চিত করা উচিত।
মডুলার বা ফ্লিপ-আপ হেলমেট
এই ধরনের হেলমেটের সামনের অংশ প্রয়োজন অনুযায়ী ওপরে তোলা বা নামানো যায়। যানজটে আটকে থাকলে, কারও সঙ্গে কথা বলতে হলে কিংবা অতিরিক্ত গরম অনুভূত হলে পুরো হেলমেট না খুলেই স্বস্তি পাওয়া যায়।
ভালো মানের মডুলার হেলমেটে থুতনি ও চোখের সুরক্ষার ব্যবস্থাও থাকে। নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যবহারিক সুবিধার কারণে অনেক চালকদের কাছে এটি জনপ্রিয়।
ওপেন-ফেস হেলমেট
শহরের ভেতরে স্বল্প দূরত্বে চলাচলের জন্য ওপেন-ফেস হেলমেট বেশ পরিচিত। এতে মাথার পেছনের অংশ, কপাল ও কান সুরক্ষিত থাকে।
তবে থুতনির অংশ খোলা থাকে। যদিও সামনে ভিজর থাকে, তবুও মুখের নিচের অংশ সুরক্ষার বাইরে থেকে যায়। ফলে নিরাপত্তার দিক থেকে এটি ফুল-ফেস হেলমেটের তুলনায় পিছিয়ে।
হাফ হেলমেট
যারা পূর্ণাঙ্গ হেলমেট ব্যবহার করতে অস্বস্তি বোধ করেন, তাদের মধ্যে হাফ হেলমেট জনপ্রিয়। এতে মূলত মাথার উপরের অংশ ঢাকা থাকে এবং বেশির ভাগ অংশ খোলা থাকে।
হালকা ওজন ও বাতাস চলাচলের সুবিধা থাকলেও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি তুলনামূলক কম কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।
ডুয়াল-স্পোর্ট বা অ্যাডভেঞ্চার হেলমেট
দীর্ঘ ভ্রমণ কিংবা দুর্গম পথে মোটরসাইকেল চালানোর জন্য এই ধরনের হেলমেট তৈরি করা হয়েছে। এতে মাথার ওপর অতিরিক্ত ছাউনি থাকে, যা রোদ থেকে সুরক্ষা দেয় এবং উড়ে আসা ছোট বস্তু প্রতিরোধে সহায়তা করে।
চোখ ঢাকার অংশ সাধারণ ফুল-ফেস হেলমেটের তুলনায় বড় হওয়ায় চারপাশ সহজে দেখা যায়। দীর্ঘ যাত্রার কথা মাথায় রেখে এতে বাড়তি বায়ু চলাচলের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
অফ-রোড হেলমেট
পাহাড়ি, কাঁচা বা দুর্গম রাস্তায় চলাচলের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয় অফ-রোড হেলমেট। এতে থুতনির অংশ কিছুটা সামনে বাড়ানো থাকে, যাতে দীর্ঘ সময় ব্যবহারে শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা না হয়।
এ ছাড়া চোখের ওপরের অংশে বিশেষ ছাউনি থাকে, যা রোদ থেকে সুরক্ষা দেয়। প্রতিকূল পরিবেশে মোটরসাইকেল চালানোর কথা বিবেচনা করেই এর নকশা তৈরি করা হয়েছে।
হেলমেট কেনার সময় যা দেখবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেলমেট কেনার সময় শুধু রং বা নকশা নয়, এর সুরক্ষা মান, ফিটিং ও ব্যবহারের উপযোগিতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী সঠিক হেলমেট নির্বাচন করলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।