আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে তাজুল ইসলামকে সরিয়ে নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগের গুঞ্জন চলছে। অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হবে— এমন গুঞ্জনও উঠেছে। ট্রাইব্যুনালের একাধিক প্রসিকিউটর নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশের স্বনামধন্য এক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইতোমধ্যে তাজুল ইসলামকে আইন মন্ত্রনালয় থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে যে, এই পদে নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগের কথা ভাবছে বিএনপি সরকার।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।
এদিকে দীর্ঘদিন থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) খবর কাভার করা ঢাকাভিত্তিক ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানও ফেইসবুকে তাজুলকে সরে যেতে হচ্ছে বলে পোস্ট দেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে তিনি লেখেন, তার স্থলে আরেকজনকে দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে নতুন সরকার।
সূত্রের বরাত দিয়ে বার্গম্যান ফেইসবুকে লেখেন, তাজুলের স্থলে আইনজীবী আমিনুল ইসলামের নাম বিবেচনায় রয়েছে, যিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষে দুর্নীতি মামলা পরিচালনকারী আইনজীবী দলের সদস্য ছিলেন। তবে আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বার্গম্যানও সরকারের কারও বক্তব্য পাননি। আর তাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও মন্তব্য করতে চাননি বলে ফেইসবুকে লেখেন এ সাংবাদিক।
মূলত, জুলাই আন্দোলনে সারাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও আওয়ামী লীগের আমলে গুম খুনের বিচারের জন্য ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে এডভোকেট তাজুল ইসলামকে নিয়োগ দেয় আইন মন্ত্রনালয়।
তাজুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইসিটিতে জামায়াত নেতাদের আইনজীবী ছিলেন। তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। সে পদ থেকে তার পদত্যাগ করার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে।
নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুদিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশন টিমের থাকা বা না থাকার বিষয়ে কোনো খবর আছে কি না জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, না, কোনো কথা হয়নি। আমাদেরকে বলা হয়েছে সবকিছু স্বাভাবিক থাকবে।