তনু হত্যা মামলা
কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের (৫২) অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট হাফিজুর রহমানকে যে জামিন দিয়েছিলেন, চেম্বার আদালত তা স্থগিত করেছেন। তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ না করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করবে।
তিনি আরও জানান, আগামী রোববার বিষয়টি পরবর্তী আদেশের জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।
এর আগে গত ২ আগস্ট বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ হাফিজুর রহমানকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। একই সঙ্গে কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। ওই আদেশের পর ৪ আগস্ট কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
পরে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল দায়ের করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চেম্বার আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে সম্পূরক কার্যতালিকায় আবেদনটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান। গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হয়নি।