মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে তাকে দুই দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন। আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মধ্যে দীর্ঘদিনের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিন বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে হেফাজতে রয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, গত ১৬ বছর ধরে মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে মাসুদ উদ্দিনের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। পলাতক অবস্থায় তিনি একাধিকবার প্রতিবেশী দেশে যাতায়াত করেছেন এবং মাসুদ উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়া মাসুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা একই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৬ জুলাই মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।