বাংলাদেশে শিশুদের জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন ১৪ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৫ সালের মার্চে। নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও ক্যাপসুল সংকটের কারণে এরপর আর তা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
গত বছর সেপ্টেম্বর এবং চলতি বছরের মার্চে দুটি ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল। তবে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল না থাকায় সেগুলো বাস্তবায়ন করা যায়নি। এর ফলে দেশের কোটি কোটি শিশু নির্ধারিত সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী অবশ্য বলেন, ক্যাম্পেইন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে—এভাবে বলা ঠিক হবে না। তার ভাষ্য, ক্যাপসুল সংগ্রহে বিলম্ব হওয়ায় কর্মসূচি পিছিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, বিদেশ থেকে ক্যাপসুল আনার প্রক্রিয়া চলছে এবং ১৫ জুনের মধ্যে চালান দেশে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী জুনের শেষ সপ্তাহে, সম্ভাব্য ২৭ জুনের দিকে ক্যাম্পেইন শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় দুই কোটি ৫৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। ছয় থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ক্যাপসুল দেওয়া হয়। এবার প্রায় দুই কোটি ৬০ লাখ ক্যাপসুলের চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এবার প্রথমবারের মতো ইউনিসেফের কাছ থেকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক দফা ক্যাপসুল কেনা হলে আরেক দফা ইউনিসেফ বিনা মূল্যে দেবে—এমন সুবিধার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে দরপত্রের মাধ্যমে ক্যাপসুল সংগ্রহ করা হলেও সর্বশেষ টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘ সময় ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, দৃষ্টিশক্তি ও পুষ্টির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। জনস্বাস্থ্যবিদ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ভিটামিন-এ কর্মসূচির ফলে বাংলাদেশে রাতকানা রোগ প্রায় নির্মূল হয়েছে। পাশাপাশি এটি হাম, ডায়রিয়া ও অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০১৯-২০ সালের জাতীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট জরিপে দেখা যায়, দেশে ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতি দুই শিশুর একজন ভিটামিন-এ ঘাটতিতে ভুগছে। গবেষকদের মতে, ভিটামিন-এ শিশুদের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করা, সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো এবং ত্বক ও রক্তস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর কর্মসূচিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে চালিয়ে যেতে হবে, যাতে অপুষ্টির ঝুঁকি আরও কমানো যায়।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা