১৫০ কেজি থেকে ফিটনেস জার্নি
বলিউড তারকা অর্জুন কাপুরের ওজন কমানোর যাত্রাটা মোটেও সহজ ছিল না। ১৬ বছর বয়সে যার ওজন ছিল ১৫০ কেজি, সেই তিনিই আজ অনেকের জন্য ফিটনেসের অন্যতম অনুপ্রেরণা। তবে এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি শুধু শরীরের মেদই ঝরাননি, বদলে ফেলেছেন নিজের জীবনদর্শন ও মানসিকতা। সম্প্রতি নিজের এই শারীরিক ও মানসিক রূপান্তরের গল্প অকপটে শেয়ার করেছেন এই অভিনেতা।
অর্জুন জানান, একটা সময় কেবল সিনেমার পর্দায় নিজেকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরার জন্যই তিনি ঘাম ঝরাতেন। কিন্তু এখন আর দর্শকের বা নির্মাতাদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য নয়, বরং নিজের সুস্থতা ও মানসিক শান্তির জন্যই শরীরচর্চা করেন তিনি।
অসম প্রতিযোগিতার অবসান
অন্যরা যেখানে তিন মাসে কাঙ্ক্ষিত ফিটনেস পান, অর্জুনের সেখানে লেগে যায় অন্তত ছয় মাস। শুরুতে এই বিষয়টি তাকে হতাশ করলেও, এখন তিনি অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করা বন্ধ করেছেন। সিনেমার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে দ্রুত ওজন কমানোর চাপ একসময় তার শরীরচর্চার আনন্দকে বিষাদগ্রস্ত করে তুলেছিল। তবে এই বছর তার ফিটনেসের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না। এখন তিনি কেবল নিজের জন্যই ওয়ার্কআউট করেন, যা তার জীবনে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পার্থক্য তৈরি করেছে।
মানসিক স্বাস্থ্য ও ‘না’ বলতে শেখা
অর্জুনের এই সুস্থতার যাত্রায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে থেরাপি এবং আত্মযত্ন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা যে কোনো দুর্বলতা নয়, বরং শক্তির জায়গা—সেটাই তরুণদের বোঝাতে চেয়েছেন তিনি। থেরাপি এখন তার জীবনের এমন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা তিনি কখনোই বাদ দেন না।
একইসঙ্গে তিনি শিখেছেন নিজের প্রয়োজনে ‘না’ বলতে। আগে রুটিন ছাড়া চলাটাকে তিনি স্বাধীনতা ভাবলেও, পরে উপলব্ধি করেন যে অতিরিক্ত স্বাধীনতাই আসলে মানুষকে শৃঙ্খলাহীন ও অলস করে তোলে। তাই এখন ভোরবেলা শরীরচর্চার মধ্য দিয়ে দিনের শুরু করেন তিনি, যা সারাদিনের কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
ইন্ডাস্ট্রির চাপ ও ভারসাম্য
বলিউডে টিকে থাকার ইঁদুর দৌড় এবং শারীরিক গঠন নিয়ে নানা কটাক্ষ অনেক সময়ই তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। বাইরের হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে তিনি আজ বুঝেছেন, ফিটনেস মানে শুধু ওজন কমানো নয়; বরং এটি হলো শরীর ও মনের এক দীর্ঘস্থায়ী ভারসাম্য। আর এখন সেই ভারসাম্যের পথেই হাঁটছেন তিনি।
তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস