ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত শাকিব খান অভিনীত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘রকস্টার’ শুরু থেকেই ছিল দর্শক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। নতুন লুকে শাকিব খান, মিউজিক্যাল ঘরানার গল্প এবং ভিন্নধর্মী প্রচারণার কারণে সিনেমাটি ঘিরে তৈরি হয়েছিল বাড়তি কৌতূহল। তবে মুক্তির পর ছবিটি নিয়ে দর্শকমহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। প্রশংসা ও সমালোচনা দুই ধরনের আলোচনাই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আড্ডায় সমানভাবে জায়গা করে নিয়েছে।
মুক্তির আগে থেকেই ‘রকস্টার’কে বছরের অন্যতম আলোচিত চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। ট্রেলার, গান এবং শাকিব খানের নতুন উপস্থিতি দর্শকদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেয়। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এটি হতে যাচ্ছে তার সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী কাজগুলোর একটি।
মুক্তির পর দর্শক প্রতিক্রিয়ায় সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন যেমন দেখা গেছে, তেমনি উঠে এসেছে কিছু প্রশ্নও। দর্শকদের একটি অংশের মতে, চলচ্চিত্রটি প্রচলিত বাণিজ্যিক ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধরনের গল্প বলার চেষ্টা করেছে। তাদের দৃষ্টিতে, ছবিটির মূল শক্তি এর পরিবেশ নির্মাণ, ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় চরিত্রের মানসিক দ্বন্দ্বকে তুলে ধরার প্রয়াস।
অন্যদিকে সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়াও কম নয়। অনেক দর্শকের আলোচনায় উঠে এসেছে চিত্রনাট্যের গতি, গল্পের বিন্যাস এবং কিছু চরিত্রের উপস্থাপনার বিষয়। তাদের মতে, ছবির ভাবনা আকর্ষণীয় হলেও নির্মাণের কিছু জায়গা আরও শক্তিশালী হলে দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা সহজ হতো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন মতামত ও রিভিউ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ‘রকস্টার’কে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে এর গল্প বলার ধরন নিয়ে। কেউ এটিকে সাহসী নির্মাণপ্রয়াস হিসেবে মূল্যায়ন করছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি মূলধারার দর্শকের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তবে একটি বিষয়ে প্রায় সবাই একমত শাকিব খান নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। তার লুক, পর্দা উপস্থিতি এবং চরিত্রের ভিন্ন মাত্রা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সিনেমাটির গান ও ভিজ্যুয়াল নির্মাণও ইতিবাচক মনোযোগ পেয়েছে।
পরিচালক আজমান রুশো শুরু থেকেই বলে আসছেন, ‘রকস্টার’কে তিনি প্রচলিত অ্যাকশননির্ভর বিনোদনের কাঠামোয় নির্মাণ করেননি। বরং খ্যাতি, একাকিত্ব, মানসিক চাপ এবং একজন তারকার ব্যক্তিগত সংকটকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ধরনের একটি গল্প তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, কোনো সিনেমা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। সেই বিবেচনায় ‘রকস্টার’ দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। কারণ মুক্তির পর থেকে ছবিটি শুধু প্রেক্ষাগৃহেই নয়, সামাজিক মাধ্যমেও আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
বাণিজ্যিক সাফল্যের পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট ‘রকস্টার’ দর্শকদের উদাসীন রাখতে পারেনি। প্রশংসা হোক কিংবা সমালোচনা, ছবিটি নিয়ে আলোচনা থামেনি। আর সেই কারণেই মুক্তির পরপরই এটি দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের অন্যতম আলোচিত সিনেমায় পরিণত হয়েছে।