বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী গান ‘দুঃখ যদি না পাবে তো’ নতুন সংগীতায়োজন ও সমকালীন উপস্থাপনায় প্রকাশ পেয়েছে। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী পৌলমী গাঙ্গুলী ও সংগীতায়োজন করেছেন শেলডন ডি সিলভা। ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের পর গানটি শ্রোতাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
রবীন্দ্রনাথের অমর সৃষ্টিকে আধুনিক সংগীতের পরিসরে নতুনভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে ক্লাসিক ও সমকালীনতার এক সেতুবন্ধন তৈরির প্রয়াস দেখা গেছে এ গানে। ভিডিও নির্মাণে রাখা হয়েছে মিনিমালিস্টিক উপস্থাপনা, আলো-ছায়ার ব্যবহার ও ধীরগতির দৃশ্যায়ন গানের অনুভূতিকে আরও গভীর করেছে।
শিল্পী পৌলমী গাঙ্গুলী একাধারে কণ্ঠশিল্পী, সংগীতশিল্পী ও সংগীত শিক্ষক। তিনি ‘সিম্ফনি মিউজিক’ এর প্রতিষ্ঠাতা। সংগীত শিক্ষার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে ভারতের মুম্বাই (মহারাষ্ট্র) ও কলকাতায় সংগীতচর্চা ও শিক্ষাদানে যুক্ত আছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হেমনগর জমিদার হেমচন্দ্র পরিবারের উত্তরসূরী। ফলে তার শিল্পচর্চায় একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক শেকড়ের সংযোগ লক্ষ করা যায়।
গানটি নিয়ে পৌলমী গাঙ্গুলী জানান, এটি তার কাছে কেবল একটি সংগীত প্রকল্প নয়, বরং গভীর অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। ভালোবাসা, বেদনা ও না বলা আবেগের মিশ্রণেই গানের মূল আবহ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে সংগীতায়োজক শেলডন ডি সিলভা আধুনিক সাউন্ড ডিজাইন, গিটার ও বেজের ব্যবহারের মাধ্যমে সমসাময়িক আবহ সৃষ্টি করেছেন, যেখানে মূল রবীন্দ্রসুরের আবেগ অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে।
সংগীত বিশ্লেষকদের মতে, ক্লাসিক রবীন্দ্রসংগীতের আধুনিক উপস্থাপনা সবসময়ই একটি চ্যালেঞ্জ। তবে যথাযথ সংবেদনশীলতা ও শিল্পমান বজায় রেখে উপস্থাপন করা গেলে তা নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। ‘দুঃখ যদি না পাবে তো’ সেই প্রচেষ্টারই একটি সফল উদাহরণ বলে মনে করছেন তারা।
গানটির ভিডিও ইউটিউবে উন্মুক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে দুই বাংলার সংগীতপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে গানটি, যেখানে রবীন্দ্রনাথের চিরন্তন সুর নতুন রূপে আবারও ছুঁয়ে যাচ্ছে শ্রোতাদের হৃদয়।