শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ফের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিগত সরকার ২৫ শতাংশকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করে গেছেন, এখন এটাকে একশ ভাগ করার দায়িত্ব আমাদের, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সরকারের কৃষি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি আবারও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, শহীদ জিয়াউর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি স্বল্প সময়ের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। শিক্ষকদের জন্য বেতন-ভাতার ৫০ শতাংশ প্রদান করে এমপিও ব্যবস্থার সূচনা ছিল তারই একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। পরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া শিক্ষকদের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। বিগত সরকার সেই ২৫ শতাংশ সুবিধাকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করেছে। এখন সময় এসেছে এই সুবিধাকে ১০০ শতাংশে উন্নীত করার, আর সেই দায়িত্ব আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করছি—শিক্ষা খাতে যে অব্যবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করা হবে। কারণ, আমাদের সবার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো—আমাদের সন্তানদের শিক্ষিত ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মঞ্চে বসে আমি ভাবছিলাম, কতটা সুদূরপ্রসারী চিন্তা থাকলে একজন নেতা তিস্তা ব্যারেজের মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেন! শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রায় সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যানেল নির্মাণ করেছিলেন, যেখানে আধুনিক প্রকৌশল ব্যবস্থায় পানি উপরে-নিচে প্রবাহিত হতে পারে। তিনি চেয়েছিলেন এই অঞ্চলকে শস্যসমৃদ্ধ, স্বনির্ভর এক জনপদে পরিণত করতে। ঠিক তেমনি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি, এই তিনটি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জিয়া ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো, কৃষিতে নতুন ধারণা আনা, এমনকি বন্যার মধ্যেও ভাসমান চাষাবাদের মতো উদ্ভাবনী চিন্তা তুলে ধরা—এসবই ছিল তাদের দূরদর্শী নেতৃত্বের অংশ। আজ আমরা সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের নেতা কৃষকদের মর্যাদা দিয়েছেন, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন, তাদের কথা শুনেছেন। কারণ, এই দেশ কৃষকের—এই দেশ সাধারণ মানুষের।’