সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বর্তমান নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের রাজস্ব আহরণের কাঠামো পুনর্বিবেচনার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, কেবল ব্যক্তিগত আয়ের ওপর আরোপিত করের ওপর নির্ভর করে টেকসই রাজস্ব বৃদ্ধি সম্ভব নয়; বরং করের আওতা ও উৎস বহুমুখী করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সম্পদের ওপর কর আরোপের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সম্পদের যথাযথ মূল্যায়নের ভিত্তিতে যেসব সম্পদ হস্তান্তর হচ্ছে বা যেখানে সম্পদ সঞ্চয়ের প্রবণতা স্পষ্ট, সেগুলোকে করের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের ক্ষেত্রে ইনহেরিটেন্স ট্যাক্স কার্যকরভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, বর্তমানে মূলত ভূমির ওপর কর আরোপ সীমাবদ্ধ থাকলেও, সামগ্রিক সম্পদের ভিত্তিতে উত্তরাধিকার কর নির্ধারণ ও আরোপ করা উচিত।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট নিয়ে ইকোমিক রিপোটার্স ফোরাম (ইআরএফ) এবং অন্যান্য গণমাধ্যমের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের আয় ও সম্পদের বৈষম্য কমাতে নতুন করে ওয়েলথ ট্যাক্স (সম্পদ কর) এবং ইনহেরিটেন্স ট্যাক্স (উত্তরাধিকার কর) চালুর বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, দেশে আয় ও সম্পদের ডিসপ্যারিটি বা বৈষম্য অনেক বেড়ে গেছে। এই বৈষম্য কমানোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো ইনকাম ট্যাক্স। যারা সুপার ইনকাম করেন, তাদের ওপর ট্যাক্স রেট বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে, যা এনবিআর বিবেচনা করছে। বিশেষত ওয়েলথ ট্যাক্স (সম্পদ কর) এবং ইনহেরিটেন্স ট্যাক্স (উত্তরাধিকার কর) চালুর বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।
১৯৬৩ সাল থেকে দেশে ওয়েলথ ট্যাক্স ছিল, কিন্তু ১৯৯৯ সালে তা তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে শুধু সারচার্জ নেওয়া হয়। এনবিআর ওয়েলথ ট্যাক্স পুনরায় চালু করার বিষয়ে কাজ শুরু করেছে, তবে এর ভ্যালুয়েশন এবং ডাটা সংগ্রহ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া ছোট আকারে হলেও ইনহেরিটেন্স ট্যাক্স চালুর বিষয়েও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।