নাগরিক প্রতিদিনে ধারাবাহিক সংবাদ
নাগরিক প্রতিদিন-এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাজধানীর গুলশানের বাসার বিশেষ এক গোপন সুড়ঙ্গ থেকে মির্জা আবুল বাশার মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকা প্রতারণাসহ রয়েছে অসংখ্য মামলা।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১২টার পর গুলশান-২-এর ২৮ নম্বর রোডে আবুল বাশারের আলিশান বাসাটি চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। তথ্য ছিল—নজরদারিতে থাকা বাশার এই বাসাতেই লুকিয়ে আছেন। রাত গড়িয়ে সকাল হলেও বাশারের কোনো হদিস মিলছিল না। পুরো ফ্ল্যাট ওলটপালট করেও যখন বাশারকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন পুলিশের সন্দেহ হয় বাথরুমের ওপর। তল্লাশি করতেই বেরিয়ে আসে চোখ কপালে ওঠার মতো দৃশ্য! বাথরুমের দেয়ালের পেছনে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা হয়েছে একটি গোপন সুড়ঙ্গ! আর সেই অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভেতরেই আত্মগোপনে ছিলেন ঢাকাই সিনেমার নায়িকার এই কোটিপতি স্বামী। শনিবার সকালে সেই সুড়ঙ্গ থেকে বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গুলশান অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাশারের অবস্থানের তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার রাতে বাসাটি ঘিরে ফেলা হয়। শনিবার সকালে তল্লাশি চালিয়ে বাথরুমের পেছনের গোপন সুড়ঙ্গ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইসলামাবাদের পশ্চিম আউলিযাপুরের বাসিন্দা এই মির্জা আবুল বাশার ওরফে মামুন। স্থানীয়দের তথ্য ও অনুসন্ধানে জানা যায়, মির্জা আবুল বাশার পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের অসংখ্য শীর্ষ নেতাকর্মীর সঙ্গে ছিল তার গভীর সম্পর্ক। ফ্যাসিস্টদের সেই ক্ষমতার হাওয়া গায়ে লাগিয়ে নামসর্বস্ব ‘বিটিএল’ নামক একটি ভুয়া কোম্পানি খোলেন বাশার। এরপর শুরু হয় তার দেশব্যাপী জালিয়াতি। বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। কাউকে জায়গা দেওয়া, কাউকে চাল কিংবা তেলের ডিলারশিপ দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া ছিল বাশারের মূল ব্যবসা।
বাশারের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ! অনেক ভুক্তভোগী ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজেদের শেষ সম্বল গ্রামের জায়গা-জমি বিক্রি করে নগদ টাকা এই প্রতারকের হাতে তুলে দিয়ে পথে বসেছেন। তার বিরুদ্ধে শুধু গুলশানই নয়, রাজধানীর বাড্ডা, খিলক্ষেত, বনানী, ভাটারাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে।
সম্প্রতি কোরবানির ঈদের আগে রংধনু এগ্রোর খামার থেকে একাই ৮টি বড় গরু কেনেন বাশার। খামারিকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক দিলেও সেটি ব্যাংকে বাউন্স করে। এছাড়া মাসিক ভাড়ায় নেওয়া একটি ব্যক্তিগত গাড়ির কয়েক মাসের ভাড়া না দিয়ে গাড়িটি আটকে রাখারও অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী। পাওনা অর্থ ও গাড়ির অবস্থান নিয়ে এই জালিয়াতির পরই মূলত আইনি বেড়াজালে আটকা পড়েন বাশার।
এসি শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান আরও জানান, গুলশান থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হবে। তবে ভুক্তভোগীদের মনে এখনো একটি বড় আতঙ্ক কাজ করছে। কারণ, এর আগে গত বছরের অক্টোবরেও আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। কিন্তু আইনের ফাঁক গলে জামিনে মুক্তি পেয়েই তিনি আবারও দ্বিগুণ উৎসাহে প্রতারণায় সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
এরইমধ্য
এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।