চাকরি করতেন সেলসম্যান হিসেবে, বেতন ছিল মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। অভিযোগ উঠেছে, সেই বেতনের চাকরি করেই তিনি আজ ফ্ল্যাট, গাড়ি আর বিলাসবহুল জুয়েলারি দোকানের মালিক! রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের একটি নামী জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৯৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগে অবশেষে সিআইডির জালে ধরা পড়েছেন সেই সেলসম্যান কৃষ্ণ বসাক ওরফে স্বপন বসাক।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক অবিশ্বাস্য ‘ইনসাইডার জব’-এর তথ্য। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত—দীর্ঘ ৫ বছর ধরে কৃষ্ণ বসাক তার সহযোগীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিল তিল করে সরিয়ে ফেলেছেন মোট ৭ হাজার ৫৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। প্রতিষ্ঠানের স্টক মেলাতে গিয়ে যখন ৯৪ কোটি টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে, তখন আকাশ থেকে পড়েন মালিকপক্ষ।
সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিম বিভাগের তদন্তে কৃষ্ণ বসাকের যে সম্পদের পাহাড় বেরিয়ে এসেছে, তা দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় কর্মকর্তাদের। আয়কর নথি ও আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে—যে প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান ছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজেই খুলে বসেছেন জুয়েলারি ব্যবসা, যেখানে বিনিয়োগ করেছেন ৩৩ লাখ টাকা। মিরপুর বা পার্শ্ববর্তী এলাকায় কিনেছেন প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট ও পার্কিং স্পেস। পুঁজিবাজারে তার বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৭ লাখ টাকা। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাওয়া গেছে কোটি কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের হদিস। এমনকি আয়কর নথিতে তিনি নিজের নামে ৫০ ভরি স্বর্ণ প্রদর্শন করেছেন, যা আসলে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের একটি সামান্য অংশ মাত্র।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে বসুন্ধরা সিটির সামনে থেকেই কৃষ্ণ বসাককে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এর আগে এই মামলার অন্য এক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে কৃষ্ণ বসাকের এই ‘মাস্টার ব্লুপ্রিন্ট’-এর কথা ফাঁস করে দিয়েছিলেন। বর্তমানে কৃষ্ণ বসাককে রিমান্ডে নিয়ে আত্মসাৎকৃত স্বর্ণ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
৯৪ কোটি টাকার এই বিশাল জালিয়াতি একজন সেলসম্যানের পক্ষে সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের অডিট ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি নজরদারিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কীভাবে দিনের পর দিন এত বিপুল স্বর্ণ পাচার হলো তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।