রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এবার নতুন এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম উঠে এসেছে। মোহাম্মদপুরের বসিলা গরুর হাটের ইজারা নিয়ে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের সঙ্গে টিটনের বিরোধ ছিল বলে দাবি করেছেন নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন। সাংবাদিকদের কাছে বুধবার (২৯ এপ্রিল) এই তথ্য জানান তিনি।
টিটনের বড় ভাই জানান, জামিন পাওয়ার পর টিটন দুবার যশোরে গিয়েছিলেন। সর্বশেষ সাক্ষাতে টিটন তাকে জানিয়েছিলেন, বসিলার গরুর হাট নিয়ে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে সামান্য ঝামেলা চলছে।
বড় ভাইয়ের দাবি অনুযায়ী, টিটন এই বিরোধ মিটমাট হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে প্রাণ হারাতে হলো।
আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও টিটনের ভগ্নিপতি সানজিদুল ইসলাম ইমনের সঙ্গে কোনো ‘কিলিং পর্যায়ের’ বিরোধ ছিল না বলে মনে করেন রিপন। তিনি বলেন, ‘ভাইবোনের মধ্যে ছোটখাটো ঘটনা থাকতেই পারে, কিন্তু ইমন আমার মায়েরও যত্ন করত।’
খুনের সুষ্ঠু বিচার চেয়ে রিপন বলেন, ‘পুলিশকে সব জানানো হয়েছে, আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই।’
এদিকে পুলিশ বলছে, গত বছর পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও টিটনের ভগ্নিপতি ইমনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গিয়েছিল। ফলে টিটন হত্যাকাণ্ড সেই আন্ডারওয়ার্ল্ড কোন্দলের কোনো জের কিনা, তা নিয়ে চলছে তদন্ত।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় ওত পেতে থাকা ঘাতকরা টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ঘাতক ক্যাপ ও মাস্ক পরিহিত ছিল। টিটন গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়লে ঘাতকরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
টিটনের মরদেহ বুধবারই যশোর নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে পরিবার।