যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের ‘বিশেষ সম্পর্ক' নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান টারনার। ফাঁস হওয়া এক মন্তব্যে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যদি সত্যিই কারো ‘বিশেষ সম্পর্ক’ থেকে থাকে, তাহলে তা ‘সম্ভবত ইসরায়েলের’ সঙ্গে; যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নয়।
রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো যখন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস যুক্তরাষ্ট্রে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন।
সিএনএনের বুধবারের (২৯ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দায়ে পিটার ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করার পর রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পান টারনার।
দায়িত্ব নেওয়ার মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে সফররত একদল ব্রিটিশ শিক্ষার্থীর সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিংয়ে টারনারকে বলতে শোনা যায়, “‘বিশেষ সম্পর্ক’ শব্দবন্ধটি আমি ব্যবহার না করার চেষ্টা করি। কারণ এটি অনেক বেশি সেকেলে এবং এতে পুরোনো দিনের অনেক বোঝা জড়িয়ে থাকে। আমার মতে, সম্ভবত একটি দেশেরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বিশেষ সম্পর্ক’ রয়েছে, আর সেটি হলো ইসরায়েল।’
ব্রিটিশ সরকার ও রাজপরিবার যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন করে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে, সেখানে খোদ রাষ্ট্রদূতের এমন সংশয় ডাউনিং স্ট্রিটের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ঠিক আগ মুহূর্তে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এই খবর প্রকাশ করে।
এপস্টিন কেলেঙ্কারি নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন টারনার।
তিনি অবাক বিস্ময়ে শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘এই কেলেঙ্কারি যুক্তরাষ্ট্রের কাউকে সেভাবে স্পর্শ করেনি, অথচ ব্রিটেনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা (ম্যান্ডেলসন এবং অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর) এর কারণে ধরাশায়ী হয়েছেন। ব্রিটেনের বিচার বিভাগ বর্তমানে এই দুই ব্যক্তিকে নিয়ে তদন্ত করছে।’