পবিত্র মাহে রমজানে ব্যবহৃত ভোগ্যপণ্য আমদানি ও মজুতে এবার ভালো অগ্রগতির আভাস ছিল। আশা করা হয়েছিল, রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় মাত্রায় থাকবে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের আবারো অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও ধর্মঘটের কারণে অসাধু ব্যবসায়ীদের নতুন অস্ত্র তুলে দিয়ে নিত্যপণ্য নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি।
এরই প্রেক্ষিতে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে চট্টগ্রাম বন্দরের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহবান জানিয়েছে ক্যাব-চট্টগ্রাম এবং অতিদ্রুত চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের এ আন্দোলন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এ আহবান জানিয়ে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের প্রেসিডেন্ট জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমানসহ প্রমুখ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, পুরো দেশ যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য উৎসুখ হয়ে আছে, সেখানে নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা চারদিন বন্ধের কারণে রমজানের দুই সপ্তাহ আগে কর্মদিবস আছে মাত্র সাতদিন। এর মধ্যে সপ্তাহের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে ভোগ্যপণ্যের চেইনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটবে। এতে ছোলা, ডাল, তেল, চিনি, খেজুরের মতো রমজানে ব্যবহৃত নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ানোর আরও একটি সুযোগ ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন তথাকথিত আন্দোলনকারীরা যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তারা।
নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বন্দরে পণ্য খালাসের সংকটকে পুঁজি করে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট প্রতিবছর রমজানের বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। এতে রমজান নাজাতের মাস হলেও ব্যবসায়ীদের জন্য মুনাফার মাস আর সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কষ্টের মাস হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে বন্দর নিয়ে এ আন্দোলনের কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই বলেও উল্লেখ করেন তারা। কারণ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার রোজার আগেই দায়িত্ব হস্তান্তর করার ঘোষণা দিয়েছেন। বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা চাইলে নির্বাচিত সরকারের কাছে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে দেনদরবার করতে পারেন। এক্ষেত্রে নির্বাচিত সরকার তাদের দাবির বিষয়ে চিন্তা করতে পারতেন। তাই এ সময়ে এ ধরনের দাবি নিয়ে আন্দোলন করে ভোগ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতাকে উসকে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মত দেন নেতারা।
তারা বলেন, রমজানকে সামনে রেখে বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ থাকলে স্বাভাবিকভাবে বাজার অস্থির হবে, দাম বাড়বে এবং পণ্যের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, প্রতিবছর রমজানকে সামনে রেখে পণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করার জন্য একটি চক্র কাজ করে। নানান গোষ্ঠী ও সংস্থার ইন্ধনেও এ ধরনের আন্দোলন হয়ে থাকে। রোজা সামনে রেখে বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ থাকলে পণ্যের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাজার অস্থির হবে, দাম বাড়বে।
এ সুযোগে যেসব ব্যবসায়ীর গুদামে পণ্য মজুত রয়েছে, তাদের অনেকে দাম বাড়িয়ে দেবে। কারণ অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ খোঁজেন। বন্দরের আন্দোলন তাদের সামনে সে সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। তারা মানুষের পকেট কাটার নতুন ইস্যু পাবেন—যা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাজ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন নেতৃবৃন্দ।
তাই পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার ও সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে এ ধরনের জনবিরোধী আন্দোলন থেকে বের হয়ে আসা উচিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।