সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজনকে গলা কেটে হত্যার মামলায় তার স্ত্রীসহ দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পাবনার আটুয়া হাউজপাড়া গ্রামের গোলাম রহমানের মেয়ে ও নিহত সেলিম রেজা সুজনের স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি এবং শাহজাদপুর উপজেলার মাঘলা গ্রামের বিল্লাল ফকিরের ছেলে মনিরুল ফকির (৩৬)। রায় ঘোষণার সময় মনিরুল ফকির আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামি উম্মে জামিলা তিথি পলাতক।
সিরাজগঞ্জ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামসুজ্জোহা শাহানশাহ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ মামলায় মো. পিয়াস হোসেন (৩৪) ও রাশিদুল ইসলাম রাশেদ (৪২) নামে আরও দুজনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। পিয়াস হোসেন পাবনার আটুয়া হাউজপাড়া গ্রামের পারভেজের ছেলে এবং রাশিদুল ইসলাম রাশেদ শাহজাদপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২ জুন সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজনকে তার নিজ ঘরে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথির বিরুদ্ধে পরকীয়ার জেরে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যান।
পরে নিহতের মা মাজেদা খাতুন বাদী হয়ে দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘদিন সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার মামলাটির রায় ঘোষণা করেন আদালত।
এদিকে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তারা আদালতের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এ ঘটনায় আদালত এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।