লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ স্বামীর বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
নিহত আফরোজা বেগমকে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে শারীরিক নির্যাতনের পর কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।
নিহত আফরোজা বেগম কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। প্রায় এক বছর আগে উপজেলার নিথক গ্রামের দীন ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর কাজের সুবাদে স্বামী-স্ত্রী গাজীপুরের কোনাবাড়িতে বসবাস করতেন। সেখানে পারিবারিক কলহের জেরে প্রায়ই আফরোজাকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বজনদের ভাষ্য, আফরোজা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে তিনি বাবাকে ফোন করে নির্যাতনের কথা জানান। এরপরই রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে একটি লাশবাহী গাড়িতে করে আফরোজার রক্তাক্ত মরদেহ কালীগঞ্জের নিথক গ্রামে স্বামীর বাড়ির উঠানে রেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যান বলে অভিযোগ পরিবারের।
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, মরদেহের সঙ্গে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাপত্র পাওয়া গেছে। ওই চিকিৎসাপত্রে মৃত্যুর কারণ বিষপান উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিহতের শরীরজুড়ে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করেছেন তার স্বজনরা। এ কারণে বিষপানে মৃত্যু নাকি অন্য কোনোভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, আফরোজাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় স্বামী দীন ইসলামসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।