ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান মনির ওরফে মনির খান। প্রায় দুই মাস ধরে ঢামেকের পুরাতন বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মিজানুর রহমান মনির পটুয়াখালী সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক খানের ছেলে। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহসভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিন্টো রোড এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মিজানুর রহমান মনিরকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ঢাকায় ছয়টি এবং পটুয়াখালীতে দুটি মামলাসহ মোট আটটি মামলা ছিল। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর বিভিন্ন মামলায় ধাপে ধাপে জামিন পেলেও অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারেই রাখা হয়। সর্বশেষ গত ৩০ জুলাই শেষ মামলাতেও তিনি জামিন পান।
পরিবারের দাবি, চলতি বছরের ৯ জুন কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুরাতন বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জামিন পাওয়ার পরও তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হাতে হাতকড়া পরানো একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে মনির খানের স্ত্রী, পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা জাহান বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও প্রায় এক মাস তার হাতে হাতকড়া ছিল। হাসপাতালে আনার দুই দিন পর থেকেই তিনি কাউকে চিনতে পারছিলেন না এবং তার পুরো শরীর প্যারালাইজড হয়ে যায়। চিকিৎসকরা যখন তাকে সুস্থ করে তোলা কঠিন বলে জানান, তখন দায়িত্বে থাকা পুলিশ তার হাতের হাতকড়া খুলে দেয়।
স্বজনদের ভাষ্য, আইসিইউতে ভর্তি থাকার সময় তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বুধবার বিকেলে তিনি মারা যান।
মনির খানের চাচা আবদুল কালাম আজাদ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার নিজ এলাকায় তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।