সিলেট থেকে হবিগঞ্জ আসার পথে জেলার প্রবেশমুখে পুলিশের বাঁধায় আটকে আছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা। বুধবার (২৯ জুলাই) জেলার বাহুবল উপজেলায় মুছাই নামক স্থানে একটি বালুর ট্রাক দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে তাদেরকে আটকে দেয় পুলিশ। প্রায় ২ ঘন্টা ধরে তারা এখানে আটকে আছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রার সভা শেষ করে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা গাড়ি বহর নিয়ে সার্কিট হাউজে যাবার পথে সবুজবাগ এলাকায় পৌঁছালে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, সারজিস আলমের উপর হামলা চালায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের বহনকারী ও মিডিয়া সেলের গাড়ি ভাংচুর করা হয়।
পরে পুলিশ এসে হামলাকারীদের সরিয়ে দিলে তাদের গাড়িবহর আবারও রওনা দেয়। কিন্তু কোর্ট মসজিদ এলাকায় আসলে আবারও হামলার মুখে পড়েন তারা। এ সময় নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর গাড়ি চলে গেলেও আটকা পড়েন সারজিস আলম। এ খবর স্থানীয় এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছালে তারা এসে প্রতিরোধ করে। শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ সময় সারজিস আলম একটি হোটেলে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সারজিস আলমসহ কয়েকজনকে সার্কিট হাউজে নিয়ে যায়। পরে সারজিস আলমসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে আহতদের নিয়ে হাসপাতালে যেতে চাইলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাঁধার মুখে পড়ে। এ সময় আবারও শুরু হয় দু’পক্ষের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেকসহ কয়েকজন সোনালী ব্যাংকে গিয়ে আশ্রয় নেন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে এসে তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
প্রায় এক ঘন্টা পর রাত ৮টার দিকে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সরিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউজ নিয়ে আসে। এরপর রাত ১০টার দিকে পুলিশ পাহাড়ায় সারজিস আলম ও নাহিদ উদ্দিন তারেক গাড়িবহর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
এরই প্রতিবাদে আজ (বুধবার) সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা করে এনসিপি। আর আজকের হবিগঞ্জের বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেবার কথা ছিল এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক যথাক্রমে সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি। এছাড়াও কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি এবং সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের।
একই স্থানে একই সময়ে সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং জেলা ছাত্রদল বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজনের ঘোষণা দিলে আজ সকালে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।
১৪৪ ধারা জারির পরও এনসিপির শীর্ষ নেতারা হবিগঞ্জে আসার ব্যাপারে অনড় থাকেন। এদিন সকালে তারা ঢাকা থেকে সিলেটে আসেন। এরপর সড়ক পথে মৌলভীবাজার হয়ে হবিগঞ্জ জেলার প্রবেশমুখ মুছাই ব্রীজের নিকট গাড়িবহর পৌঁছলে কয়েকশত পুলিশ একটি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে তাদেরকে আটকে দেয়।
এরপর থেকে তারা কয়েক দফা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আসতে চাইলেও ব্যর্থ হয়। চলে তাদের মধ্যে বাগ বিতন্ডা।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রায় ২ ঘন্টা ধরে পুলিশ কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটক করে রেখেছে। তাই তারা এখনো হবিগঞ্জে আসতে পারে নাই।