পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিজের জমিতে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণের জন্য একটি সরকারি বিদ্যালয়ের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, আদালতের রায়ের ভিত্তিতে প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে জমি কিনেই রাস্তা নির্মাণ করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিক্সলেন সড়কসংলগ্ন এলাকায় রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও নুরুজ্জামান কাফির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, কলাপাড়ার রজপাড়া মৌজায় ১৯৫৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে কেনা মোট ৪০ একর ৬৪ শতাংশ জমি তারা ভোগদখলে রয়েছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে নিবন্ধিত হয়।
তাদের অভিযোগ, গত সপ্তাহে রাতে নুরুজ্জামান কাফি বিদ্যালয়ের প্রায় ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির মধ্যে থেকে ৬ শতাংশ জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে বাধা দিলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিমকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তার দাবি, তিনি কোনো জমি দখল করেননি। জমির প্রকৃত মালিক দাবি করা ওয়ারিশদের কাছ থেকে বায়না চুক্তির মাধ্যমে ৬ শতাংশ জমি কিনে সেখানে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা অভিযোগ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে জমির ওয়ারিশ দাবিদার সালাউদ্দিন নয়ন পাহলান বলেন, তাদের দাদা মোবারক পঞ্চায়েতের ২৯ একর জমি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর ধরে মামলা চলছিল। ২০২৫ সালের জুনে পটুয়াখালীর আদালত এবং পরে সুপ্রিম কোর্ট তাদের পক্ষে রায় দেন। আদালতের রায়ের পর তাদের দখলে থাকা জমি থেকেই কাফিকে ৬ শতাংশ জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।