শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে কীর্তিনাশা নদী। নদীর দুই পাড়ের কয়েকটি গ্রামে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। তারা প্রতিদিন নৌকায় চড়ে এপাড়-ওপাড় যাতায়াত করেন। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এখানে নির্মাণ হয়নি কোনো সেতু। এতে যাতায়াতে দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কীর্তিনাশা নদীর এক পাড়ে নারায়ণপুর অপর প্রান্তে ইকরকান্দি। প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শিশু-বৃদ্ধসহ শত শত মানুষকে এই নদী পার হতে হয়। তবে এখানে সেতু না থাকায় বিপাকে পড়তে হয় সবাইকে।
বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে নদীর তীব্র স্রোত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে পারাপার হয়ে ওঠে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী নৌকায় নদী পেরিয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত করে। খারাপ আবহাওয়ায় অনেকেই স্কুলে যেতে পারে না।
স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নদীর ওপার থেকে আসে। বৈরী আবহাওয়ায় উপস্থিতি অনেক কমে যায়। বর্ষাকালে নদীর স্রোত ও বৃষ্টির কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে চায় না। দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ না হলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।’
নারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘যোগাযোগ সমস্যার কারণে এই এলাকার শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নৌকায় পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেকেই লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।‘
শুধু শিক্ষা নয়, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হয়। কৃষক ও ব্যবসায়ীদেরও বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
স্থানীয় আব্দুল আজিজ বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও এখানে কোনো সেতু নির্মাণ হলো না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভোট চাওয়ার সময় শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়েছেন, কেউ তাদের কথা রাখেননি।’
কৃষক সুরুজ মিয়া বলেন, ‘এখানে একটা সেতু থাকলে খাদ্যশস্য, শাকসবজি ও মুমূর্ষু রোগী নিয়ে সহজে নদী পাড় হওয়া যেত। অথচ এখন আমাদের কত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গর্ভবর্তী নারী ও বৃদ্ধদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না।‘
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন মাদবর বলেন, এখানে একটি সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। নারায়ণপুর ও ইকরকান্দি বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে একটি সেতু নির্মাণ হলে হাজারো মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।’
বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অনুপম চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই এখানে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে। সেতুটি নির্মিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।’