বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির সময় ধরা পড়ে গণপিটুনিতে মো. রাফি মন্ডল (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত রাফি মন্ডল ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের নাটাবাড়ী গ্রামের বুলু মন্ডলের ছেলে। এই ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২) নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি একই উপজেলার বড়বিলা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের চন্ডেশ্বর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। ওই গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী ও আব্দুল জলিল যৌথভাবে একটি সেচ পাম্প পরিচালনা করেন। চুরির হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের সঙ্গে বিশেষ সতর্কবার্তা ডিভাইস (অ্যালার্ম) সংযুক্ত করেছিলেন।
গভীর রাতে রাফি ও জাহাঙ্গীর ট্রান্সফরমারটি চুরি করার চেষ্টা করলে ডিভাইস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিকপক্ষের মোবাইল ফোনে কল চলে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে রমজান আলী ও আব্দুল জলিল চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দুই যুবককে আটক করে। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তারা গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাফি মন্ডলের মৃত্যু হয়। আহত জাহাঙ্গীর হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খবর পেয়ে শেরপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
শেরপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন জানান, ট্রান্সফরমার চুরির সময় গণপিটুনির ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।