মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙা হাজীপাড়া এলাকায় ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে বোমা সদৃশ বস্তু, কাফনের কাপড় ও হুমকিমূলক চিরকুট রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা হাড়াভাঙা হাজীপাড়ার ইউসুফ আলীর বাড়ির প্রবেশপথের সামনে এসব রেখে যায়। রোববার সকালে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ বোমা সদৃশ বস্তু, কাফনের কাপড় ও চিরকুট উদ্ধার করে।
ইউসুফ আলী উপজেলার হাড়াভাঙা গ্রামের ছইমুদ্দিনের ছেলে। তিনি একসময় প্রবাসে থাকলেও বর্তমানে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি পলিথিনে মোড়ানো বোমা সদৃশ বস্তু, সাদা কাফনের কাপড় এবং হুমকিমূলক চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আসসালামু আলাইকুম ইউসুফ, তুমি সাবধান। তুই আর তোর ছোট সন্তান মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও। পাঁচ লাখ টাকা রেডি কর।’
ইউসুফ আলী বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে বাড়ির মেয়েরা ঝাড়ু দিতে গিয়ে প্রবেশপথে পলিথিন ও কাফনের কাপড়ের সঙ্গে চিরকুট বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়। পরে স্থানীয় মেম্বারকে খবর দিলে তিনি পুলিশে জানান। পুলিশ এসে সেগুলো উদ্ধার করে।
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনার পর থেকে আমি, আমার পরিবার ও আশপাশের লোকজন চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিবুল ইসলাম বলেন, রাতের আঁধারে কে বা কারা ইউসুফ আলীর বাড়ির প্রবেশ পথের সামনে বোমা সদৃশ বস্তু, কাফনের কাপড় ও চিরকুট রেখে যায়। চিরকুটে ইউসুফ আলী ও তার ছেলেকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল করিম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পলিথিনে মোড়ানো একটি বোমা সদৃশ বস্তু, কাফনের কাপড় ও চিরকুট উদ্ধার করে গাংনী থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, টেপ দিয়ে মোড়ানো একটি বোমা সদৃশ বস্তু, চিরকুট ও কাফনের কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।