কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাবনার খামারীরা। প্রায় এক বছর ধরে গরু মোটাতাজা করেছেন তারা। দেশীয় এবং প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে মোটাতাজা করায় নেই কোনো শঙ্কা। ফলে এবার কোরবানীর পশু বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ার আশা খামারীদের।
যদিও পশুখাদ্যের দাম বেড়েছে, তবুও ভালো লাভের আশা করছেন খামারিরা। পাশাপাশি, ভারতীয় গরুর আমদানিকে কেন্দ্র করে রয়েছে তাদের বাড়তি উদ্বেগ। খামারিরা মনে করছেন, ভারতীয় গরুর আমদানি বন্ধ হলে দেশীয় গরুর চাহিদা ও দাম উভয়ই বাড়বে, যা তাদের জন্য লাভজনক হবে।
ইয়ার উদ্দিন নামে এক খামারি বলেন, ‘দেশীয় খাবার দিয়েই গরু মোটাতাজা করছি। এবার পশুখাদ্যের দাম বেশি এবং পশুর পরিচর্যায় খরচ ও শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে। তবুও আশা করছি ভালো দাম পাব। তবে ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ না হলে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।‘
শফিকুল ইসলাম নামে এক খামারি বলেন, ‘কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে গরু লালন-পালন করেছি। তবে শেষ মুহূর্তে যদি বাজারে ভারতীয় গরু প্রবেশ করে, তাহলে আমরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ব এবং লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হবে। তাই সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের তথ্য মতে, পাবনায় ৩৩ হাজার খামারে কোরবানীর জন্য ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলায় কোরবানীর পশুর চাহিদা ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি। উদ্বৃত্ত পশু ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৬টি। অর্থাৎ এ বছর জেলায় চাহিদার চেয়ে ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৬টি পশু বেশি রয়েছে।
এদিকে গরু মোটাতাজাকরণে যেন কেমিক্যাল ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. কৃষ্ণ মোহন হালদার। তিনি জানান, প্রতিটি উপজেলায় ভেটেরিনারী টিম খামারীদের নানারকম পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে কেউ ক্ষতিকর কোনো ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করতে না পারে। এছাড়া খামারিদের নানা ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।