গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও জেলা সদরের মাস্টারবাড়ি–খালিশাবর্তা–সাকাশ্বর সড়কের তুরাগ নদীর ওপর সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় পাঁচ বছর। তবে এখনো সেতুর এক পাশে তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। যার কারণে দুই পারের লাখ লাখ চরম বিপাকে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে মাটি দিয়ে ব্যবহার উপযোগী করার চেষ্টা করলে প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না। বরং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়দের জানান, তারা নিজ উদ্যোগে মাটি ফেলে ও বাঁশের সহায়তায় অস্থায়ী পথ তৈরি করে কোনোভাবে সেতুতে ওঠানামা করছেন। সেতুর দু’পাশে ওঠা–নামার পথ অত্যন্ত খাড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের জন্য চলাচল করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। অনেক সময় অন্যের সাহায্য ছাড়া সেতুতে ওঠা যায় না। এছাড়া ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সেতুর আশপাশে পানি বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তখন এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, “বহুদিন ধরে আমরা একটি নিরাপদ সেতুর স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু সেতু নির্মাণ হলেও রাস্তা না থাকায় আমরা সেই সুবিধা পাচ্ছি না।”
বৃদ্ধ করিম আক্ষেপ করে বলেন, “কত আশা ছিল মরার আগে ব্রিজটা দেইখা যামু। ব্রিজ তো দেখলাম, কিন্তু রাস্তা দেখবার ভাগ্য হয়তো আর হইব না।”
আলাল ব্যাপারি বলেন, “আগে নৌকা দিয়া পারাপার হইতাম, তাতে তেমন সমস্যা ছিল না। এখন ব্রিজ হইছে ঠিকই, কিন্তু রাস্তা না থাকায় সুবিধা তো দূরের কথা উল্টো আমাদের ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে।”
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাছেদ বলেন, “সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণসহ কিছু জটিলতা থাকায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং খুব দ্রুত এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।“