আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর ঝালকাঠি শহরের বাসবভনে আবারও ভাঙচুর করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। বুধবার(৬ মে) দুপুরে শহরের রোনালসে সড়কের এ বাসভবনে ভাঙচুর চালানো হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে ওইদিনই বিকেলে আমির হোসেন আমুর বাসভবনে ভাঙচুর করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা। পরে বাড়িটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই রাতে ভবনের মধ্য থেকে পাঁচ লাখ টাকা ও ডলার উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনার পর ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। প্রধান ফটকটিও ছিল খোলা। স্থানীয়রা ভাঙা ভবনের মধ্যে ময়লা আবর্জনা ফেলতেন। সোমবার (৪ মে) রাতে কারা যেন ভবনটি সুরক্ষার জন্য প্রধান ফটকে টিনের বেড়া দিয়ে আটকে দেয়। এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে তারা বুধবার দুপুরে ভবনের প্রধান ফটকের টিনের বেড়া খুলে আবার ভাঙচুর চালায়।
ঝালকাঠি জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আল তৌফিক লিখন বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে আমির হোসেন আমু ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন নীতিনির্ধারক। তাই তার বাসবভনটি পুড়িয়ে ময়লার ভাগাড় বানানো হয়েছে। এই ভবন যারা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেবে, তাদের প্রতিহত করা হবে। ভবনটি দেখে সবার মনে ভয় থাকবে, কেউ যেন ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী হয়ে না ওঠে। তাহলে তাদের পরিণামও এমন হবে।’
জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ইয়াসিন ফৈরদৌস ইফতি বলেন, ‘এই বাড়িটি ফ্যাসিস্টদের চিহ্ন হিসেবে থাকবে। এখানে কোন প্রকার সংস্কার করতে দেওয়া হবে না। যারা করতে আসবেন, তাদের জবাব দেওয়া হবে। এখানে বসেই আমাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এটি ভাঙাচোড়া স্মৃতি হিসেবে থাকবে।’