লালমনিরহাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। হাতীবান্ধা উপজেলার দৈখাওয়া হাটে শুক্রবার (১ মে) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে, যার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
হামলাকারীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে এবং তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন—দৈনিক মানবকণ্ঠের লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সাজু ও আনন্দ টিভির প্রতিনিধি আব্দুর রহিম।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে ভিডিও ধারণ করছিলেন সাংবাদিকরা। এ সময় গোতামারী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নুর ইসলাম ও ওই ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল সম্পাদক মজিবর রহমানের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। অতিরিক্ত টোল নিয়ে প্রশ্ন তোলায় আসাদুজ্জামান সাজুর হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে মারধর করা হয়।
এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে আরেক সাংবাদিক আব্দুর রহিমের ওপরও হামলা করা হয়। তাকেও ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ছিনিয়ে নেওয়া ফোন ফেরত চাইলে পুনরায় মারধরের শিকার হন তারা।
সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজু বলেন, ‘স্থানীয়দের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ পেয়ে আমি ভিডিও ধারণ করছিলাম। এ সময় বিএনপি নেতা নুর ইসলাম তার লোকজনসহ আমার ওপর হামলা চালিয়ে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। আমার গলা চেপে ধরে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারা হয়। আমরা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
অন্যদিকে সাংবাদিক আব্দুর রহিম বলেন, ‘হাটের ইজারাদার ও তার লোকজন ইচ্ছেমতো টোল আদায় করছিল। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ভিডিও করার সময় আমার ওপর হামলা চালানো হয়। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।’
লালমনিরহাট প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন স্বপন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা নুর ইসলাম হামলার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে আমাদের কোনো খারাপ আচরণ হয়নি। শুধু কথা কাটাকাটি হয়েছে।’ আর অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মজিবর রহমান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’