শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপত্র ক্রয় ও দাখিলে বাধা, লাঞ্ছনা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কিছু আইনজীবী ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন অন্যান্য রাজনৈতিক দলপন্থী প্রার্থীরা।
জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা যায়, আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষ্যে গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) খসড়া ভোটার তালিকা ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। মনোনয়নপত্র ক্রয় ও দাখিলের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয় রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত।
অভিযোগ রয়েছে, রোববার সকাল থেকেই সমিতির সম্মেলন কক্ষের দরজায় অবস্থান নেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য ও বহিরাগতরা। এ সময় তারা অন্যান্য দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ক্রয় ও দাখিলে বাধা দেন এবং কয়েকজনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
ভুক্তভোগী আইনজীবীদের মধ্যে এনসিপিপন্থী সভাপতি পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মোসলেম খান অভিযোগ করেন, রোববার বেলা ১টার দিকে তিনি মনোনয়নপত্র কিনতে গেলে প্রথমে তাকে সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে তাকে টেনে তার চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে পুনরায় মনোনয়নপত্র কিনতে গেলে তাকে লাঞ্ছিত করে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘আমি স্বৈরাচারকে সমর্থন করি না। তারপরও আমাকে মনোনয়ন কিনতে দেওয়া হয়নি। তারা এককভাবে সমিতির পদ দখল করতে চায়। এতে আইনজীবীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।’
এদিকে ইসলামী আন্দোলনপন্থী প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুরাদ মুন্সি অভিযোগ করেন, সহকারী নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট রুবায়েত আনোয়ার মনির নিজেই তার চেম্বারে গিয়ে তাকে মারধর করেছেন। তিনি বলেন, ‘যেখানে বিচার দেওয়ার কথা নির্বাচন কমিশনের কাছে, সেখানে তারাই যদি এমন আচরণ করে, তাহলে আমাদের আস্থার জায়গা কোথায়?’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মৃধা নজরুল কবির। তিনি বলেন, ‘আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ব্যক্তিরা ছাড়া সবাই মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন। কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি।’
সহকারী নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট রুবায়েত আনোয়ার মনিরও মারধরের অভিযোগ নাকচ করে বলেন, ‘আমরা সারাক্ষণ সম্মেলন কক্ষেই ছিলাম। কারও চেম্বারে গিয়ে মারধরের প্রশ্নই ওঠে না।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করেছে।’
এদিকে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, ‘মনোনয়নপত্র ক্রয় ও দাখিলের সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।’
এ ঘটনায় আইনজীবী মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।